আমার ব্লগ তালিকা

মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০

কবিতা

শাপলা পর্ব - ২

কবি রাজীব মৌলিক এর কবিতা -


১।    প্রেমিক



একটি গাছের পাশে দাঁড়ালে 
যদি ছায়া না পড়ে
তবে সহজেই বুঝে যাই 
সে আর বৃক্ষ নয়
পুরোপুরি প্রেমিক হয়ে উঠেছে

প্রকৃত প্রেমিকের কোনো ছায়া থাকে না
সে যেখান দিয়ে হেঁটে যায়
সেখানেই কেবল পড়ে থাকে দেহ



২।   আলাপ 



একটি দীর্ঘ আলাপের পরই
একটি দীর্ঘ কবিতা লেখা যায়
এমনটা নয়
আলাপ নাম মাত্র হলেও
কিংবা একদম না হলেও
দীর্ঘ কবিতা লেখা যায়

সেক্ষেত্রে শুধু বিস্ময় চিহ্নের প্রয়োজন হয়
এ জীবন তো বিস্ময় চিহ্নের সমারোহ
দাড়ি কমা কেবল ঠিক করে দেয়
কোথায় হালকা থামতে হবে
কোথায় পুরোপুরি!



৩।   কথোপকথন 



একটি লাশের সঙ্গে প্রায়শই কথা হয়
পৃথিবী তার সঙ্গে কোনো সাক্ষ্যতা রাখেনি
না আছে ডাকনাম 
না পরিচিত 
না ভালো বন্ধু... 

কথার ছলে বলি; সৎকার করে নাও
আর কতদিন এভাবে আমার সঙ্গে কথা বলবে
আমার বুঝি সংসার নেই! 

সে হাসে, হাসির ভেতর জ্যান্ত মানুষের গন্ধ
আচমকা আমি কেঁপে উঠি
ঘুম ভেঙে যায় চিরতরে



৪।    মুখ 



যে মুখে তুমি কথা বলে হেসে ওঠো 
ও মুখ আদতে আঁশটে গন্ধের পাতাবাহার

দহন শেষে ছাঁই যেমন বিজ্ঞাপন দেয়
ওই মুখও উনুনের কালোয় ভরে যায় 
পোষা বেড়ালের মতো জাত ভুলে
মালিক কেন্দ্রিক হয়ে
সকলে বোঝাতে চায় 
হাসি একটি উপহার

আর উপহার, 
কন্যাদানের মতো শর্তহীন




৫।   ভাষা 



যার বাবা নেই 
তাকে কখনো জিজ্ঞেস কোরোনা
তোমার বাবা জীবিত না মৃত?

সে হয়তো দ্বিধায় পড়ে যাবে
বারবার ঠোঁট আওড়াবে
তবু উত্তর দেবেনা

একসময় তুমি নিজ থেকে বুঝে যাবে
তার নীরবতার ভাষা


অলংকরণ - মেহবুব গায়েন

::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

কবিতা

শাপলা পর্ব - ২

কবি সোমনাথ প্রধান এর কবিতা - 



১।   এই রকেট জীবন


এই রকেট জীবন,
সিগারের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে
ক্রমশ এগিয়ে যাই
চিরায়ত অতীতের দিকে...

বায়োস্কোপে দেখতে পাই,
কাশের কেশর, সৌম ধুলো,
কাঁচা মাটির উপর তুলির প্রবাহ,
চণ্ডীতলা...

আর একটা স্পষ্ট মুখ,
বেঁটে মতো খেলার সঙ্গিনী,
কী যে নাম ভুলে গেছি,
বামুনের মেয়ে, যার জন্য
নিরামিষ খেলাঘরে
প্রথম দু'হাত পুড়েছিল,

শাক-পাতাদের জ্বরে...



২।  প্রেম


মুহূর্ত থেকে মুহূর্ত পর্যন্ত সাঁকো বাঁধে তৃষ্ণা

জলের ধারণা জানতে গিয়ে আজ
চেনা হল
জোছনার আরেক প্রজাতি 

ডুব দিয়ে তাই চলে যাচ্ছি
উদাস চাঁদের খোঁজে,
শুনছি, বুকের ভেতর প্রাচীন মাছেরা
বাজিয়ে চলেছে শিস

বন্ধুরা বলছে, প্রেমে পড়েছিস!



 ৩।   ইসাবেলা নাসরিন


লাজুক প্ল্যাটফর্মে উড়ে এল দ্বিপ্রাহরিক পরিন্দা,
বেজে উঠল সিটি, দূরত্বকে গর্ভে ধরতে ব্যস্ত হ'ল ট্রেন,
বহুযুগ বয়সী এক স্মৃতি, সামনে দাঁড়াল হঠাৎ,
হেসে জিজ্ঞেস করল, 'ভাল আছেন !'
এভাবেই দেখা হয়ে যায় !
পরাঙ্মুখ সময়ও প্রাণের কাছে এসে 
বাজিয়ে যায় বরণের রিং টোন...

কতদিন পর ! কতদিন পর ইসাবেলা নাসরিন !
শুভেচ্ছা, ভূমিকা আর ছাপোষা জিজ্ঞাসারা
একাকার হয়ে গেল, দুঠোঁটে নেমে এল অতীত আলোর জোয়ার, 
টিকিট না কেটে ধরা পড়া সেই বাংলা এম.এ-এর ব্যাচে
রেল পুলিশের একমাত্র মেয়ে...
তখন পাকাপাকি স্কুলের দিদিমণি,
অথচ কী মিশে যেতেন সবার সাথে, ছায়া যেভাবে ছায়ায় মিশে যায় !

'একটা মিষ্টি ঘসঘষে গলা ছিল আপনার, রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইলে
শুনতে শুনতে আমাদের জিভের উপর ঘুমিয়ে যেত চুইংগাম ।
একবার  চানঘরে হল দুর্ঘটনা, বন্ধুরা ডাক্তার নিয়ে এলাম,
তারপর প্রেসক্রিপশন হাতে বেল্ট আনতে গিয়ে জেনেছিলাম 
আপনার কোমরের মাপ !
তারপর ধুলোয় লেগেছে ফুলের গন্ধ, ঘুম হয়েছে টেরাকোটার রাজ্য...
কিন্তু পরনে এত অন্ধকার কেন ? বিবাহিত ? 
সঙ্গে কি আছেন সেই অন্ধকারদাতা ?
তাঁকে বলেননি নিশ্চয়ই, রাতের পর রাত কীভাবে স্বর্গোদ্যান হ'ত 
আদরের রাফ খাতা !
বলেননি নিশ্চয়ই, ঝোলা ব্যাগে কাব্যগ্রন্থের সাথে নদীর বাঁধ কিনে আনতাম আপনার জন্য, প্রত্যেক মাসে !
কতটা বন্ধু হলে নদীর বাঁধ কিনে আনা যায় নাসরিন ?
মনে আছে, আপনার জন্য এক মৌলবাদীকে চড় মেরেছিলাম ! হ্যাঁ, মহালয়ার নৃত্যে
দুর্গা সেজেছিলেন আপনিই, দর্শকাসনে এক ঘণ্টায় একশ সাতাশ বার বধ হয়েছিলাম ।
অথচ শুধু দ্বন্দ্ব আর বিতর্ককে ছুটি দিতে 
একদিন, না ব'লে ফিরে গেলেন !
চিঠির পর চিঠি পিছু নিয়েও ফিরে এসেছে, ঠিকানা বদলে সেই যে হারালেন...'

এতক্ষণ চুপ ছিলেন নাসরিন । হঠাৎ অন্ধকার ফুটো ক'রে
কিছু জোনাকি যেন জ্বালিয়ে দিল বিপ্লবের মশাল ! কাঁপতে থাকা সেই 
আলোর ভেতর থেকে জেগে উঠল 
অবাক বাকপ্রতিমা...
বললেন, 'অন্ধকার প'রে আছি ব'লে 
প্রত্নের সন্ধান নিতে কেউ আসে না, নিজের ইচ্ছে মতোই নিজেকে খুঁড়ি,
ইচ্ছে মতোই তুলে আনি, বৃদ্ধ রাতেও দুচোখে ছোঁয়াই
সে সব আলোর কণা,
আজও নদীর ঘুম ভাঙলে, আপনাকেই মনে পড়ে জনাব !'



৪।   ব্ল্যাক হোলের দিনগুলি


একুশ রোল নম্বরের আলোর কাছে
এত অন্ধকার জানতাম না !
অঙ্কের ব্যাচে অনেকের স্বপ্ন হলেও
ভীন স্কুলের যমুনা জৈন
ধীরে ধীরে বুঝিয়েছিল,
সে শুধু এক রাসায়নিক প্রতিবেদন ছাড়া
আর কিছু নয় !
তড়িৎদার কাকুর মেয়েও একদিন
হৃদয় ভরাট করে মুখ ফেরাল
নতুন কোনও জৈবিক যাদুর অপেক্ষায়,
একটু শুধু আলাদা ছিল মুকুন্দপুরের মিতিন,
সাইকেল চালানো শিখে আমায় বলেছিল
রক্তিম আকাশের গল্প, অথচ তাকেই
তুলে নিল স্কলারশিপের ধেড়ে ঈগল,
সে তার ঠিকানা দিয়ে যায়নি...
তখন খুব কষ্ট হত, বাছা বাছা বিষাদ নিয়ে
বাড়ি ফিরতে খুব কষ্ট হত,
খালি মনে হত,
তুমি আরেকবার কুমারী হয়ে যাও মা,
আমি তোমার কোলে মাথা রেখে সব ভুলে যাই !



৫।   ওগো বৈষ্ণবী


তোমার কপালে 
চন্দন-পথের হেয়ার পিন বাঁকে
সে ছিল এক নিষিদ্ধ অবতরণ...
ধ্বংস ধ্বংস ভাবের মাঝেই যেদিন 
ঘুরে দাঁড়িয়েছিল কীর্তনীয়া সময়,
ঝংকৃত প্রকৃতি যেদিন, সারা শরীর পেতে
ধারণ করেছিল বিগলিত উপাস্যকে !

আজও মনে আছে, মালার নীচে সেই রক্ত ফোটার শব্দ,
চন্দনের নীচে আশ্রয়প্রার্থী আগুন... 
কম্পিত ত্যাগ-রঙের বেপথু হওয়ার মাধুর্যে
সে ছিল রামকিংকর বেজের সাতরঙা পাপের মতো
কোনও এক পার্বণ আমার...

ভেঙেছিল চন্দন পথ, মালা ছিঁড়েছিল, তবু
আজও সেই ছেঁড়া মালা
আমার চেতনার ছায়াপথ হয়ে আছে,
ভেসে আছে দুধ-সাদা স্মৃতিগুলো...

বসে আছি, শূন্যে নিয়ে সবই,
করতাল আর করতালির যুগলবন্দীর ভেতর
কষ্টের তেজে আজও
জন্মান্ধ তৃষ্ণাগুলো পোড়াচ্ছি
ওগো বৈষ্ণবী !


অলংকরণ - অতীশ কুন্ডু

::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

কবিতা

শাপলা পর্ব - ২

কবি মনোনীতা চক্রবর্তী এর কবিতা-



১।     পথের শেষ কোথায়..'


পাশ কাটিয়ে যেভাবে চলে যায় মেঘ, সেভাবেই পালক-জন্ম ডানা মেলে উড়ে গেল বুকের উপর দিয়ে

হাওয়া নরম হলে ব্যবহৃত হয়
বেনামী চিঠি অথবা সংলাপ
পড়ে থাকে শুধু বাসি গন্ধ

একদিন প্রতিদিন হয়
ঠিক যেমন প্রতিদিন হয় একদিন।
তেমনই এক ভুল দাগ অসংখ্য দাগ এঁকেছিল।
অসংখ্য দাগ থেকে একটা ল্যাদ খাওয়া দুপুর 
ঢুকে পড়ে হামাগুড়ি দিয়ে অন্দরমহলে।

প্রয়োজন শেষে জ্বলে ওঠে বাতিস্তম্ভ
ম'ম' করে নতুন রঙের গন্ধ।

দেওয়াল থেকে ফিনকি দিয়ে বেরোয় মৃত্যুদণ্ড

গালিব আড়াল হলে খুলে যায় 
কাঙাল-হাত ও পথ...



২।     আবহ-সঙ্গীত


অনুভূতি হারিয়ে গেলে শব্দের কোষে পক্ষাঘাত কবিতার আড্ডা সাজায়।
ম্যান্ডুলিনের মতো বেজে ওঠে সময়। ঘাম জমে কেবল। আসলে কপাল-চিবুক রুমালের স্পর্শ চায়। 
একসঙ্গে অনেকগুলো গাড়ির হর্ন বেজে ওঠে। থেমেও যায়।
শব্দেরা স্থির চোখে ল্যাপটপে ইচ্ছেদের হাঁটায়।কথা বলায়। আসলে, সেই সব কথা তারই। বলা হয়ে ওঠেনি। সুর কেবল ওঠে-নামে। ম্যান্ডুলিন কথার পিঠে সওয়ার হয়ে আক্রান্ত প্রায় মৃত কোষে রেখে যায় বেঁচে ওঠার থেরাপি...



৩।    দেশ


  দেশ রাগে একটা বর্ণহীন রোদ
 জেগে ওঠে যেভাবে, সেভাবে তোমার   পায়ের কাছে বসে লিখি সমস্ত কাঙালপনার গোপন কথা।
আজ সারা বাড়ি জেনে গেল
তোমার উদ্ধত যাবতীয়।
দেশরাগে যেভাবে ঘুমিয়ে পড়ে আমাদের
ভালোবাসার সন্তান। যেভাবে ও-ই শুরু থেকে শেষ অবধি লেপটে থাকে লতানো গাছাটার মতো, সেভাবে আজও তোমার বুকের ওপর মাথা রেখে
 লিখে যাই ছিঁড়ে-ছিঁড়ে যাওয়া।
জল ভেঙে যাওয়া গর্ভস্থ শুষ্ক সন্তানের 
বেঁচে থাকার সব রঙিন কথা…

চোখ বুঝলেই রাগ দেশ
চোখ খুললেই রাগ দেশ




৪।     কার্ডিগান এবং ভুল প্রুফ



এক-একটি ভুল বানানের মতো
ক্ষয় নেমে আসছে ওপর থেকে।
একটা রাত্রি যেভাবে অন্য আর-এক রাত্রির কোলে স্বপ্ন রেখে হারিয়ে যায়। যেভাবে ত্রয়োদশীর চাঁদ হেমন্তের বাগানে ঘুম রাখে প্রিয়তম বুকে, সেভাবেই একটা নাগরিক ডানা গোপনে রেখে যায় জন্মগন্ধ।

গর্ভহত্যার কথা কে-ই-বা লিখে রাখে
অথচ হেমন্ত শুধুই জন্মের প্রিয়তম হলুদ নয়। 
বয়ে যাওয়া রক্তগুলো ধানের ফিরে যাওয়ার কথা বলতে-বলতে কখন যেন হলুদ হয়ে উঠলো, সে নিজেও টের পায়নি!

হেমন্ত মানে কুচিকুচি শীত,ভাঁজ-ভাঁজ আলো আর ওয়াইন কালারের কার্ডিগান এবং টারকোয়িস-ব্লু কন্টাক্ট লেন্স আর সমবেত কণ্ঠ...
হেমন্তের গানগুলো কী অদ্ভুতভাবে আচমকা ভাতের গন্ধ হয়ে উঠলো; সমস্ত সেমিকোলন কবিতার বইয়ের কাছে এসে থমকে দাঁড়ালো...

এভাবেই হেমন্ত, লক্ষ্মীমন্ত হেমন্ত জন্ম-মৃত্যু বেঁধে ফেলে 
আকাঙ্ক্ষার ভাতগন্ধে...

 এক-একটি ভুল বানান ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।
সরে থেকো, দূরে থেকো।

যাবতীয় ক্ষয় এখন মগ্ন ভাতের নেশায়
যাও; যাও...
শুধু ভালোবাসার একটি অক্ষর 
রেখে যেয়ো যাবার আগে...



৫।    ভাস্কর্য


ঢেউ ছিঁড়ে গেলে পড়ে থাকে মোচড়ের দাগ
ফিরে আসা চিঠির ভেতর
ঘুমন্ত  মনকেমন ধ্যানস্থ পাখির
 চোখের মতো লেগে আছে...

দরজার পাশে কে-যেন আজও দাঁড়িয়ে থাকে।
নিয়মিত পিষে যাওয়া স্মৃতির সাথে 
হান্ড্রেড-পাইপার্স আর আমি। 
কতগুলো ক্লিপিং... 'এখনও আছে রজনী'
কেউ তো কখনও ছিল না আদৌ।
 দরজার ছিটকিনির আওয়াজে ভীমরুলের চাক গা-ঝাড়া দেয় যথারীতি।

ফিরে আসা চিঠি জানে, পাখির চোখের মানে
স্তব্ধ আলোর পাশে কী-করে 
অগণিত রাত্রি আঁকা যায়,তা-ও।

পাখিটা ধ্যানস্থ ছিল না।
কেউ বা কারা যেন উপড়ে নিয়েছে 
ওর চোখ দুটো।
 পাশে দুটো কাটা হাত।
পাখিটা ঘুমোয় না কখনও...


অলংকরণ - মেহবুব গায়েন

::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

কবিতা

শাপলা পর্ব - ২

কবি অভিজিৎ দত্ত এর কবিতা -


১।   কেয়া

দূরের বাতাস বয়ে আনে কেয়ার সৌরভ 
কেয়া কোথায় ফুটেছিল--- গোলাপনগরে, 
                                             না আহিরীটোলায়?
শব্দের শবগুলি জেগে ওঠে, প্রশ্নের বিহিত
চায়। সূত্রধর, যাও দেখি যমুনাপুলিনে! 

ক্ষণজীবনের এই লিপি---
ফুলের কাছে যাই ছদ্ম-প্রজাপতি,
পাঠের অশেষ থেকে মুখ তুলে
                                            শেষে এমন ঘিরেছে
কাল হল, কালো হল, কালি হল।
কিছুই বলে না কেয়া,--- মুহূর্তদীপ
                                            কবে নিভে গেছে! 



২।  ঘাসফড়িঙ 


তোমাকে এখন একটা ঘাসফড়িঙ ছাড়া কিচ্ছু মনে হয় না আমার
ঘাসফড়িঙ ছাড়া আমাকেও আজ আর কিছুই মনে হয় না তোমার
সময়ের দীর্ঘ লাফ সেরে চলো যাই বর্ণবিলোপনে
                                                      সবুজ বর্ষাদিনে, ঘাসের জাজিমে---
আকাশ প্রত্ন হয়ে আছে বিলীনময় শোভা জলে, প্রান্তরের বাতাসে...
সেইসব শালিকের কাছে যাই চলো চিরকাল যারা প্রাকৃতে অন্ধ।
জন্মেছি অগ্নির বিষুবে,
না-হয় লণ্ঠনের প্রবীণ শিখায় পুড়ে যাব! 



৩।   সূর্যের পথে


সূর্যের পথে চলো যাই--- এ-কথা সূর্য শুনেছে
পাঠিয়েছে বৃক্ষের কাছে, পুড়ে যেতে হরিত-আগুনে।
অগ্নি বায়ুর মতো আমরাও তবে নাকি! 
চোখের পল্লবের ওঠা-নামায়
সমুদ্রের বিশাল পাখি ডেকে ওঠে।

সূর্যের পথে চ'লে অবশেষে আমি পেয়েছি তোমাকে
সুদূর আকাশে নয়, এই পৃথিবীরই অগ্নির ভিতরে জলজ সংগীতে। 
এ শরীরে সূর্যেরা থাকে।

তারপর উঠেছি জেগে, মাতৃসাধিকার মতো রণাঙ্গনে
বাঁচিয়ে তুলেছি পিতা ও ভাইদের শব,
দেখে ফেলে সূর্যের শৈশব! 



৪।   নরকে এসেছি নেমে


স্বর্গের পথ ছিল একার,
তাই নরকে এসেছি নেমে।
এখানে বেদনার কোনো শ্রী ও জাত নেই
ক্রীড়াশেষের জয় নেই বার্তা নেই হ্রেষা নেই
কমলানেবুর দিনে ফুল্ল স্মৃতির হাহাকার নেই
নেই পোষা কষ্টের লোভ চতুরতা বিবিধ হারেমে। 
এখানে দুঃশব্দের সন্ধির খোঁজে কেটেছে বারো মাস
রক্তাভ ফুলে ছাওয়া নিঃস্বপ্নের শীতার্ত আবাস! 
ডাইনের মতো শত্রুকে ভালোবেসে ছুড়ে দিই
অফুরন্ত গোলাপ ও মদিরা, যৌথ গানের কলি...
তোমাকেই বলি: নৃমুণ্ডের শাসন ভালো, হে তথাগত,
ফিরে যাও, নরক নরক থাক দুজনের প্রেমে। 



৫।  স্মৃতিবেলা


নিজেকে কৃশ ভেবে ঢোলা জামা কখনো কিনিনি
সুবেশা তরুণী জানে ফুটপাত মুগ্ধ হয় ভিড়ে
ঘোরাফেরা, সান্ধ্য বিকিকিনি... ভাষা ছিঁড়ে যায়
নিজেকে সেলাই করি রোজ হই ভাষাবাদী
কনুইপ্রতিভাকে ঠেলে পার করি সবজি ও ফুলের সরণি...

মুঠোর ভিতরে ফুল কষ্ট পায় জানি, এ হাতের পল্লবে
তবু তারা কখনো ফোটে না। ঢোলা জামা খোঁজে। 

ফুলেরা চতুরমতি, মৃত্যুকালে এসে ঠিক ছোঁবে!



অলংকরণ - অমৃতা নায়ক

::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

সোমবার, ২৯ জুন, ২০২০

কবিতা

শাপলা পর্ব - ২

কবি কাজরী বসু এর লেখা-


১।  পালঙের একাল সেকাল


সবটাই জানা হয়ে গেছে
তরতাজা কচি পালং
তুমি স্নানঘরে মিনিট দশেক 
সত্যান্বেষণে লিপস্টিকের অচেনা ব্র্যান্ড 
হোয়াটসঅ্যাপে সবুজ পালঙের প্রোফাইল

একত্রে হাঁটতে হাঁটতে রেললাইনের ধারে
সব কথা কাটা পড়ে যায় চলন্ত জনশতাব্দীর নীচে
মুঠোফোনে নীলাঞ্জনছায়া
বেজে বেজে থেমে যাওয়ার মানে খুব সহজ
আমি মুখে হাসি মেখে মেখে হাত ধরি
তাপ খুঁজি না

পরের সপ্তাহে সেমিনার 
নারীমুক্তি আন্দোলনের জ্বালাময়ী ভাষণ ভাবতে থাকি
আর ফেসবুকের গরমাগরম স্টেটাস
আমার লেখার প্রধান বিষয়
পিছিয়ে পড়া পরিবারের অত্যাচারিত মেয়েরা 

অন্তর্লীন জোছনায় ডুবে যায় চরাচর
তাজাপ্রতিম হতে থাকি
ফ্রিজে রেখে দেওয়া শাকসবজির মতো 
আমি জানি পচন ধরেছে ভিতরে
তবু বরফের আর থার্মোস্ট্যাটের ভরসায় ধুঁকতে থাকা

কচি পালং বড়ো সুন্দর
জানতে দিইনি ,দিইনা ,

আমি জানি
ফ্রিজে রাখা বিগতযৌবন শাকসবজি 
বিকোয় না আর
নিরাশ্রয় ভবঘুরে



২।  কাদাজল



জানালা জানালো মেঘেরা এসেছে কাছে
দু চোখ লাফিয়ে ওদিকেই গেছে ছুটে
খালি চোখে দেখি সাজোসাজো রবে ওরা
ফেসবুকে তবু মেঘরং ব্যাকফুটে।

ভুল জানা ছিল,রঙ মানে শুধু প্যাস্টেল
লাল মানে শুধু হাঁটু ছড়ে যাওয়া রক্ত
বেল মানে শুধু মাঝে রিসেসের ঘণ্টি 
ব্ল্যাকবোর্ড সাদা করে ক্লাসঘরে চক তো!

রঙেদেরও আছে এলাকা এলাকা খেলা
সে কথা বুঝিনি, বুঝিনা এখনো বেশি
না জানা গন্ধ লেবুপাতা রাখে ঢেকে
লেবুতে ফেবুতে কবে থেকে রেষারেষি!

জানা ও অজানা ডিবেটের প্রতিপক্ষ।
সত্যি মিথ্যে ভাবলে সময় নষ্ট
মুখোশেরা আদি অন্ত এভাবে তৈরি
তুমি আমি কেন করে যাব নীল কষ্ট!

লেবুপাতা জানে রাতেই গন্ধ বাড়ে।
সকালের মেঘ জানেনা,ক্ষতি কি তাতে!
ফেসবুক আজ লেবুপাতা ঘ্রাণ নেবে!
অথবা ঝাঁঝালো গন্ধে মাতবে রাতে!

সবই জেনে গেলে নিহত হবে  বিতর্ক।
মুখোশ কিভাবে জানাবে সে সর্বজ্ঞ!
অথচ সময় লাফিয়ে লাফিয়ে ছুটবে
বাদ থেকে যাবে কালো ধোঁয়া ওঠা যজ্ঞ!

জানালা খুলব ভেবে ফেসবুক খোলা।
জলে ও কাদায় সবটা গুলিয়ে যাবে
লেবু খুঁজে খুঁজে বাঘা তেঁতুলের দেখা
পেলে আর কবে ভালোবাসা খুঁজে পাবে?



৩।  আঁচ


সাতসকাল। এক নদীর জলশোধন।
রাতসোহাগীর ছিন্ন পোশাক ভাতকাপড়।
লজ্জারুণ। দুর্নিবার দুর্যোধন।
গোপন রাখা নীল গরিমার চড়চাপড়।

সব মুছে এক সকালশোভন চায়ের কাপ।
এক চামচ। দুধ -চিনির মিশ্রণে।
শাড়ির ভাঁজে সাবান ঘষা তুমুল পাপ।
এক ফোঁটা। মেঘ বিয়োয় নির্জনে।

দই ইলিশ। কামরাঙা সুখ শেষপাতে।
বিষাদরঙের ফ্লোরাল তাজা শ্বাস, ডিও।
লোডশেডিং। সময় খুব কম হাতে।
ভুল না বুঝে আজকে রাতে শোধ নিও।

সব ভুলে এক আঙুল ছুঁয়ে ট্যাক্সি অ্যাপ।
নীল ছাতা। সানগ্লাসের সবুজ কাচ।
দূরত্বের এক যোগবিয়োগে মিটছে গ্যাপ।
সমঝোতা। যাপনক্রম, চুল্লি, আঁচ.....



৪।  পরিণত পাপ


প্রথমেই লিপিবদ্ধ করে যাই শোক
প্রাণ খোঁজবার কিছু আগে
রেখে যাই স্তূপাকার গর্ভনিরোধক

খুঁজে যাই বিপন্ন শোণিতের দাগে
আমৃত্যু মৃত্যুযোনিপথ

যে ফোঁটায় গেলা যায় অনন্ত ঢোঁক
সংক্ষেপে গিলেছি শপথ

নদীজল লিখে যাই মৃতকল্প যে অভিধানে
শব্দেরা সেখানেই পালক খুলেছে অনুমানে

প্রথমেই লিখে রাখি তৃষিত বিলাপ....
হেঁটে যাই,
বেকসুর খালাসেই তুমি আছ,আমি আছি
আর আছে পরিণত পাপ...



৫।  স্বতঃসিদ্ধ


ধনুকে টানটান  ছিলাতে অনুমান লুকোনো হেমলক লিপ্ত
হননে লাগাতার তেমনই সমাচার জীবন তথাপি প্রদীপ্ত...

তাই আকাশে ভোরে রোদেলা স্বাক্ষরে লিখিত শপথের সঙ্গে
নীলাভ ক্যানভাসে এসেছে অনায়াসে উড়ানও সেই অনুষঙ্গে

করেনি বিদ্ধ সে ধনুকও অবশেষে, সে বিষও গোপনে একান্ত
তা অণুবীক্ষণে দেখা, বোঝা সে ক্ষণে কত সঠিক,কত ভ্রান্ত..

আগামী কোনো বাঁকে যে কথা লেখা থাকে লেখনী -নিঃসৃত  তরলে
বোঝা তো হতে পারে ভরেছে চুপিসারে কত সুধাতে কত গরলে..

অমৃত মেখে তীর যদি প্রয়াসে স্থির যদি বা করে তবু বিদ্ধ
থাকে না কিছু ধার সে যে ভালোবাসার,এমনই কিছু স্বতঃসিদ্ধ..


অলংকরণ - অঞ্জন দাস

::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

কবিতা

শাপলা পর্ব - ২

কবি পরান মন্ডল এর কবিতা -


১।   নীলের গন্ধ


সেই আমি নীলগঙ্গায় গঙ্গাপুত্র বংশদণ্ড হাতে নীলকর রাজা, এই নিশিভোরের সাম্রাজ্য আমার-- দ্রোহীরা নিরুদ্দেশ আছে ঘুমের ভিতরে; নীলাভ-নীল মণি'র ভূষণে সিংহাসন রাঙা |

এসেছি রক্ত-লাল-উতরল তোমার দেশে--আসার তো কথা ছিল না; দয়াবান আকাশ ছিল তোমার পাশে--উঁচু হয়ে সমুদ্র ধুয়েছে আমার পা |

নীল আকাশ নীল সমুদ্র ...আমার 'ই স্বদেশ--এই আমি নীলকর অখিল সরোবরে;মান্দাস ভাসাই আশ্বিনের সাদা পাল তুলে,বঁড়শিতে গেঁথেছি বড়ো এক নীল চিত্রফল, ভাগ নিয়ো পড়শি-পরজন---
বিজনে নিকট ছিলে ,এখন দূরে |

কোমড়ে বেঁধেছি দেখ বাঁশের খালুই-- জলজগুল্মে আছে ভ'রে  ; রেশমের ডোরে সরু এক রামধনু ঝোলে,ফাতনায় ডানার গন্ধ-- অলখে-ঝলখে ময়ূর নৃত্য করে, সজনিগো  দরজা খোলো-- রজনী আছো ঘরে?

আমি সেই পাগল মানুষ , ফানুস ওড়াই বাঁশের লগিতে-- লোকালয় বুঝে ছুড়ি ইন্দ্রজাল, উজলা-নোঙর ফেলি নদীর কিনারায় ; সজনিগো নীলের গন্ধ  নিয়ো-- থেকোনা বিদ্রোহিনী লাল |



২‌।     অনীশের বুকে জল-টলমল


অনীশের বুকে জল-টলমল তুমিই দিয়েছ -- ভৃঙ্গারে
নৃত্য জবার :

হাত থেকে খড়্গ , দেহ থেকে মুণ্ড নিয়ে মুণ্ডমালা
গলায় নিয়েছ  -- নীলশস্যদানার

 আবেগে যে-ভাণ্ডবিষ -- মন্থনের জলোচ্ছ্বাসে কুহেলিকাময় এই
সমুদ্দুর ; 

তোমাকে শেখালো -- তুমি জাগরণে জরা, বোধিবৃক্ষে গৌতম বুদ্ধ আজও 

 প্রার্থনায়  কপিলাবস্তুপুর |

অনীশের বুকে তখন জল-টলমল -- অনীশ জানল না ;

অসহ মেধার'পরে জেগে উঠল গোস্বামীর পাড়া--
শুঁড়িশাল থেকে উঠে এলেন 

প্রভুপাদ গৌরাঙ্গ ঠাকুর --

নীল নীল সুনীলব্রহ্ম ধরে যদি এই সবিরুদ্ধ কাল --

ভুল সকাল ভুল রাত্রি এসে আকার-ইঙ্গিতে লিখে
দেয় প্রহসন মৃত্যুর ;

আস্তাবলে অশ্বারোহী ছিল ভালো ,ছিল ছেলে ভালো মায়ের কোলে -- ভাই আর বোন ;

জায়া-পতি বাপ-বেটা মিলবে কী ক'রে, খোঁজ নাও--

একজন রাক্ষস যদি অন্যটি নরগণ |

অনীশের বুকে জল-টলমল ,চোখে বকুলবেলার আলো -- স্বর্গের পথ তার ছিল না কি জানা, সুন্দর
ছিল আমফুলে বনের মুকুল ; সজিনা ফুলে তখনোও তো কিছু সাদা আলো ;

শব্দের আড়াল ভেঙে নৈঃশব্দ্য সাজিয়ে রাখে কে?
প্রেরণা-মুখর এই সন্ধ্যা বেলা -- একাকী ঘরে ফেরার সময় যখন --

অনীশের দুঃখ নিয়ে বাল্মীকি-তাপস তুমি কিছু কথা বল!

'বক্ষ ছিঁড়ে কী বেরোলো -- রামসিয়া না কি কফ শ্লেষ্মা?'

অভেদ আত্মা ভেদ ক'রে ওঠে পরিকল্পনা যত ,
দেহরূপ-উদ্যানে  ঈশ ও অনীশ এখন অনন্ত
মালাকার ...

ধমনী থেকে নদী ,হৃদয় থেকে সমুদ্র ;প্রশ্বাস থেকে হাওয়া ,অশ্রু থেকে ঈশ'কে পেলাম ; আর --

এই কীটদষ্ঠ দেহকে ফেলে
জল-টলমল বুকে অমল আত্মায় অনীশ তোমাকে
পেলাম --
ঘুমের মতো বাঁশির মতো ...

আমার তো আর পুনর্জনম নেই !



৩।    তখনও জাগেনি মেদিনী আসেনি গঙ্গা

*

তখনও জাগেনি মেদিনী আসেনি গঙ্গা :

শিথানে জল নিয়ে যখন প্রথম জন্মেছিলাম আমি অযোনিসম্ভূত-- অনেকগুলো জলরথ শূন্য ছিল  

 দেবতাদের জন্ম হয়নি তখনও   শুধু    মস্তবড়ো এক সাপের ভেলায় চ'ড়ে দুলেছিলে তুমি--
পুবে উঠেছিল প্রথম-সূর্য ভ্রমে ফুটেছিল লাল জবা:

কুসুম সঙ্কাশং-- সত্য অহং   সত্য নাগদেহ   সত্য  আধেক শায়িত -- যুগসত্য ভূমা :

নয় সমুদ্র নয় রামধনুক-- সে এক সমুদ্রপালক পালকে রাঙা -- সে কথা জানে না ময়ূর  সমুদ্র জানে না 

এখন সৈকত জানে     মামণি-মন্দারমণি জানে জানে মেছোমল্ল --  যে  নৈরাশ্যের তুমুল আবেগে মধ্য সমুদ্দরে রেখেছে নোঙরের টান :

              নৌকা-বুকে দুলে-ওঠা ঢেউ   দীর্ঘশ্বাস
               নিয়ে বুকে উঠে-আসা হিমজল
               রাত্রিজল     নোনাজলের সন্তাপ--

               জন্মান্তর আছে শুধু অমরত্ব নেই জেনে
               জনমে জনমে আমরা সমুদ্রে যাই --

               অমৃত নয় , খুঁজে বেড়াই মন্থনের সাপ |




৪।       নীলের সন্ধানে নিয়তিরাত সঙ্কাশ সঙ্কাশ
                            প্রথাগত পূর্বাভাস                         *
সঙ্কাশ সঙ্কাশ
....................

ধরা যাক হঠাৎ নিভে গেল

 সূর্য ,তখনোও লেখা হয়নি শেষ সূক্ত

                           অগ্নিদেবকে জানিয়ে নমস্কার;

বিষণ্ন বসে আছেন ঋষি সংবহন

অন্ধকারে মিশে যাচ্ছে পালকের কলম, আর

                                               লেখার মস্যাধার |

ধরা যাক বিন্ধ্যাচল পাহাড়ে একা অগস্ত‍্যমুনি

আর্যদের নিয়ে যাবেন

                                                দক্ষিণের দেশে ;

হঠাৎ এক লক্ষ উল্কাপিণ্ড      তাঁকে জানাল প্রণাম

                                              শূন্য থেকে এসে !

নেই জলঘড়ি

ছায়াঘড়ি

স্ফুলিঙ্গের ভিতর যখন দিগভ্রান্ত 

                                              তারাদের কম্পাস ;

তখনই বুকের ভিতর আত্মা

                            আত্মার ভিতর দম-দেওয়া ঘড়ি

                             জানান দিচ্ছে

                                             সঙ্কাশ ...সঙ্কাশ ...
প্রথাগত পূর্বাভাস
..........................

ঋষি যায় ঋষি আসে লক্ষ ঋষি বন্দনায় বসে

নেভে সূর্য লক্ষ সূর্য ডোবে অন্ধঘরে

লক্ষ-দশ গ্রহপুঞ্জ ব্রহ্মাণ্ডে অনাথ হলে

মিথেনের আলো জ্বেলে শুয়ে কাটাব একটাই ঘুমের রাত

অতঃপর হাড়েকঙ্কালে হোক-না বর্ষব্যাপী যত উল্কাপাত

ধুলো-ধোঁয়া-অঙ্গার-অমৃতজল 
                                পুড়ে যাওয়া মাটির ভৃঙ্গার

কোটি-লক্ষ মানুষের চোখে ঘন ঘন জেগে উঠছে
                                               আদিম-অন্ধকার |

নীলের সন্ধানে
.......................

কথা ছিল

নীলের সন্ধানে ঋষি'রা তারা হয়ে এক দিন

                                          আকাশ-জন্ম নেবে

এখন নীল থেকে নিরুদ্দেশে যাওয়ার

                                         সময় হ'ল আমারও

আকাশগঙ্গায় তারা'রা স্নান সেরে ঘুমিয়েছে, এই

হাস্যমান লোকব্রহ্মায় আমিও 

                                                অতিথি ব্রহ্মার

গলায় পরেছি তারাফুলের মালা

আমাকে প্রণতি জানায় ঋষি-অষ্টবসু

কোলে এসে বসে কালপুরুষ-বালক , জানে

মহাজাগতিক  ঋষি'রা এই শূন্যলোকে

                                        ফিরে আসবে আবার |

ফিরে যাও নিয়তিরাত
..................................

যাও ফিরে নিয়তিরাত

ভূলোকে কুড়াও আত্মা

দু'হাতে কালো শস্যকণায় কর যজ্ঞের আয়োজন

কে কাকে কতক্ষণ

আঁচল বাড়িয়ে রাখতে পারে মায়ায়

দেহ ছেড়ে বিদেহি হয়

                                          ভৈরব-ভৈরবী দু'জন |

যে তন্দ্রা থেকে জেগে উঠে ব'সে আছে বহুক্ষণ

দেহহীন উত্থান নিয়ে ব`সে ভাবছে আমরা স্বাধীন

যার দুঃখ নেই     স্মৃতি জন্মের পূর্বাপর--

তাকে দিয়ো না দ্রাক্ষাকুঞ্জের মায়া, অকস্মাৎ ভ্রম

তৃষ্ণা পেলে নুনের শরবত দিয়ো এক গেলাস

                                                        চিনিবিহীন ;

বলে দিয়ো তারাদের ভাসিয়ে নদী স্বর্গ থেকে 

অলকানন্দা

এ- মাটিতে নেমে আসবে না

                                                        কোনোদিন |




৫।     বাড়ির নাম কখনো আকাশ হয় না '
                                         উৎসর্গ: MalayPahari

বারান্দা --অর্ধেক প্রেম ; যখন উঠোনে
এলে -- অখিলের বুক,দেখ গান শোনে
পাঁজরে হু হু হাওয়া -- হাড়ে চিনচিন ;

অবিদিত মানব ও মানবী আনোখা ;
প্রেম -- যাপনে একটি আজীবন রেখা
থাকে, অনুভবে জেনো -- অচিনা-অচিন ৷

বারান্দা -- অর্ধেক প্রেম ; দেখে নাও গ্রিল
ধ'রে দাঁড়িয়ে আকাশ, পিপাসার্ত চিল --
ভালোবাসার ঘর ও বাড়ি যতক্ষণ ;

তুমি তো সংসারী নও , ভীরু-আনমনা ;
দু-টি মন ভিন্ন হ'লে বাড়ির ঠিকানা --
বল তো কে কবে লিখে রেখেছে কখন?

সুখীগৃহমন জানে সখ্য-ভালোবাসা --
ডেকেছ সন্ন্যেসি তাই , মেঘদূত এসে
দেয়াল গড়ায় যেন -- শিল্প প্রাকৃতিক ;

ভাবছ, একাকী তুমি বানপ্রস্থে যাবে -- 
যাবে যাও,কেটে পড়ো,আর পিছু ফিরে
দেখ -- আছে ভালো-মন্দ যত উন্নাসিক !

সুন্দর মুখটি যেন কত জানা শোনা ,
হায়নার দাঁত জানে রক্ত-স্বাদ নোনা --
লাল-জবা হলে চোখ হঠাৎ অচেনা ;

সংসার বিফল হলে ডাকে দশ দিক,
মলয় পাহাড়ি তবে বলেছিল ঠিক --
`বাড়ির নাম কখনো আকাশ হয় না ৷


অলঙ্করণ - অতীশ কুন্ডু
......................................................................

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২০

কবিতা


                 “শাপলা” পর্ব - ১
                  ••••••••••••••••• 


কবি সুধীর দত্ত এর কবিতা -
১।। শুধোলেন শুকমুনি

সহস্র তক্ষক হেন ভাইরাসগুলো 
ছুটে যাচ্ছে বেথুয়াডহরি।
ওখানে হরিণ আছে, শিকারী কুকুর আছে, ডাকবাংলো আছে। 
মুনি শুক জিগ্যাসা করলেন, 
তোমার কি বাঞ্ছা আছে কোনো? কোনও আহ্লাদ? 
চুলের ভিতর তার বিলি কাটছে বাতাসের নরম আঙুল। 
মস্তিষ্কের ভাঁজ খুলে 
সে খুঁজে চলেছে আত্মঘাতী 
ফুলের তোড়ার মধ্যে অপূর্ণ ইচ্ছারা গোপনে
গুটিসুটি মেরে আছে কিনা ? 
মুনি শুক বললেন, খোঁজো----
আকাশ তোলপাড় করো , নক্ষত্রকলোনি যাও , 
প্রেতনদী পার হয়ে যেখানে জটলা করছে
অসমাপ্ত পঙক্তিগুলো, দ্যাখো-----
প্রিয় নারীদের কাছে বসন্তদিবসে 
খুঁজে দ্যাখো, 
বাঁচারা বাঁচার মতো বেঁচেছিল কিনা। 
যে বাদুড়  দিনমানে হেঁটমুণ্ড ঝুলে ছিল অশ্বত্থের ডালে
রাত্রিকালে সে  এল গোপনে ডানা মেলে। 
শুধোলেন শুকমুনি, 
তোমার তো কোয়ারেন্টিনের দিন শেষ হয়ে এল ;
আর কিছু ক্ষণ পরে সপ্তম দিবস। 
দংশন করবেন নাগবংশীয় কোভিড।
তুমি কি প্রস্তূত ?
তোমার কি পিছুটান, শোকতাপ, কামনার রাঙা দাহ আছে ? 
জানালায় শিস দিচ্ছে দোয়েল, শার্সিতে 
কবুতর ঠোঁটটি তার সংগিনীর ঘাড়ে  
রেখেছে কোমলভাবে। তাতঃ !  
এখনও প্রস্তুত নই, গ্লোবাল গাঁয়ের কথা, মেধীস্তম্ভ ঘিরে 
কীভাবে ভ্রমণ করে জ্যোতিশ্চক্র? বলো
কোথায়-বা জম্বুদ্বীপ? করোনাকালেও
অজনাভবর্ষে কেন দেবতারা জন্মাতে চেয়েছেন? 
মুনি শুক দেখলেন, চতুঃশ্লোকী ধীরে আলাপে বিস্তৃত হচ্ছে। আর
দংশনে উদ্যত ফণা সম্মোহিত, স্থির হয়ে আছে।


২।।   ঋষি অথর্বানের আজ্ঞায়

 
মশক পাহাড় ছেড়ে তুমি তো কাঁকড়াদাঁড়া গিয়েছ ক'বার।
একটি বার বলে দ্যাখো ,কাঁকড়াটি দাঁড়ার বিষ তুলে নেবে, ছত্রাকের মতো 
যা বিস্তার করছে বংশ ,ঘিলু খাচ্ছে, ফুসফুসের স্বাদু মাংস, সুকোমল প্লীহা ও যকৃত। 
##
সন্তানের কাতরতা তাঁকে  বড়ো বিহ্বল করে
##     
আমি কি পিতার সংগে এক, তুমি বিশ্বাস করো?
তা যদি বিশ্বাস কর 
মুহূর্তে  শিথিল হোক সকল সংশয়-গ্রন্থি,
ভাঙুক মাটির ঘট, এই বিদেহ আমি
খুলে ফেলছি পঞ্চকোষ, অন্নদেহ, আতিবাহিক, 
বিশ্বাস সত্য হোক, অন্ধ যেরকম ফিরে পেয়েছিল চোখ,  
যেরকম ত্বক থেকে নিমেষে উধাও হয়ে গিয়েছিল কুঠ, 
তোমার দৃষ্টির নীচে 
ভবন্তু সুখীনঃ সর্বে, সন্তু নিরাময়।
 ##
এই নাও আয়ু তবে, নাও ক্ষুদ্র জীবৎকাল, আয়ু। 
শান্তি, শান্তি, ওঁ শান্তি ; ভেদ করুন অগ্নি মিত্র বায়ু ও বরুণ 
ষাটকৌশিক এই দেহ,পঞ্চ প্রাণ ; ঋষি অথর্বানের আজ্ঞায়
ধায় বাক, ব্রহ্মবাক৷ ; ওষধিসকল 
##
যাও শুশ্রুতের কাছে , হে শুশ্রূষা ওসিমার্টিনিব *
তৃতীয় পুরুষে জন্ম
শোণিতপ্রবাহে  ধাও , ধাও করোটির নীচে, 
ধংস করো, শুষে খাও 
ত্বরিতে সমূহ কূট বিষ -------
*এ-টি একটি আধুনিকতম টারগেটেড থেরাপি 



৩।।   তিনি আসবেন


এখন সময় হল বুঝি ! কিংবা আজও হয়নি সময়। 
ব্রততীকে ভালোবেসে অশ্বত্থ তরুটি ক্রমাগত 
ব্রততী হয়েছে ! 
কে কার স্বরূপ পাবে, ঊর্ধমূল অধঃশাখ আমি 
চাইনি অসঙ্গ শস্ত্র, চাইনি ইঁদুরগুলি কেটে দিক অবান্তর মূল। 
কেননা অপ্রাসঙ্গিক বলে কিছু নেই। শুধু
প্রকরণ-আঙ্গিক বদলায়।
তিনি আসবেন। এবং 
এই সেই গর্ভকাল, আমাদের কোয়ারেনটাইন। 
কে-বা  আনন্দ ছাড়া বাঁচতে চেয়েছে ? 
পৃষ্ঠারা হলুদ হয়ে গেছে, তবু শৌনক ঋষি
ভুবন সোমের মতো পৃথিবীকে আশ্চর্য এক কবিতা জেনেছেন :
দেবতার এ-কাব্য মরে না , মাত্র তার জীর্ণ শরীর বদলায়। 
এই কি তপস্যা নয় ? পৌনঃপুনিক 
সহন করেছি তাপ, ঝরিয়েছি মেদ আর অভ্যাসতাড়িত ভূভার। 
কল্প যায়, কল্প আসে, জলজ শৈবাল ক্রমে স্থলবাসী ; উষ্ণ,স্যাঁতসেঁতে মাটি, জলে ও কাদায় সেইসব 
কনিফার দানব বৃক্ষেরা শুয়ে আছে , আর মেসোজয়িক প্রানীরা
স্তন্যপান করে চলে গেছে। 
আমিও সস্নেহে 
বুকের পাঁজর ফেঁড়ে হিমবন্ত, আন্দিজ ও রকি,
মানবের জন্য ফুল, ফলের গোপনে বীজ লুকিয়ে রেখেছি। 
চতুর্থ তুষার যুগ এল।
এখন সময় হল তার , কিংবা আজও হয়নি সময়। 
ব্রততীকে ভালোবেসে তরুটি কি ব্রততী হয়েছে ? নাকি 
ব্রততী অনেক দূরে থাকে ?  
 
যে উল্লাস উপচে পড়ে আনন্দের প্রচুরতা থেকে, 
আমি সেই আদি ক্ষেত্র, 
ভেঙে ভেঙে টুকরো হই, অগ্নি ও আদিত্য হই , 
মাটি ও আকাশ হই, চ্যূত কোন নক্ষত্রের দেহ থেকে প্রতিরূপ গড়ি। 
এবং ঘুরে ফিরে আসি , দেখে যাই ---
মানবের মগজের ভিতর হৃদয়
কতখানি প্রশস্ততা পেল। 
কেননা কোয়ান্টাম লাফে 
যখন মস্তিষ্ক তার বিস্ফারিত  হল, 
যখন সে  জয় করল অন্ধকার, হিম আর ভয় 
সে আত্মকেন্দ্রিক হল। ভেঙে গড়ল বিকল্প ভুবন। 
শুধুই বিচ্ছিন্ন হল, মাকে ভুলল, 
বিচ্ছিন্ন, বিচ্ছিন্ন আর বিচ্ছিন্ন হতে হতে
একদিন সে হত্যা করল সহোদর, সহোদরা,  প্রিয় নদীদের ;
দোহন করল মাটি, মাটির গোপন শস্য, বাতাসের মধু। 
অথচ সুকৃত এই দেহ।
অথচ হৃদয় ছাড়া অন্নগত মানুষের প্রাণ 
রাক্ষসের মতোন আত্মহা, 
পণ্ড করে বহুহিতে যে যজ্ঞ, সুখায়। 
এবং সময় হয়ে এল। 
কেননা সময় ও তার মন্থরতা ক্রমে 
বাড়ায় ত্বরণ , যেন মহাজাদুকর 
জাল দিয়ে চলেছেন ফুটন্ত কড়াইয়ে, নীচে গনগনে আগুন। 
বইছেও উত্তুরে হাওয়া, ইউহান থেকে আততায়ী । 
পুরনো লক্কড় যত, মূল্যবোধ, রাষ্ট্রযন্ত্র এবং বাজার, 
ভূস্বর্গে বরফ পড়ছে, বরফের ভিতর আগুন,
দেখে আসি---
কীভাবে গলানো হচ্ছে ভেঙে চুরে টুকরো টাকরা, নীলনক্সা হাতে।  
এদিকে অশ্বত্থ তরু এবং ব্রততী
ক্রমশই ঘন হয়, শ্বাসাঘাতে, চতুর্থ মাত্রিক


৪।।   শব্দতান্ত্রিক এক কবি


এই তাঁর আসন। রোজ দেখি -----
শব্দদের উপর ঠায় অর্ধ-উন্মাদ এক কবি, সমকায়- শির ও গ্রীবা, দূরাগত তারাদের সংগে কথা বলে। জনমনিষ্যিহীন 
চার দিকে মৌনী গাছ,  বৈঁচিবন,  হু হু হাওয়া ; দূরে 
শিয়াল ক'টি হাঁক পাড়ছে প্রহরে প্রহরে  : 
আয়ু গেল।
আয়ু যায় -------
দণ্ড ও মুহূর্ত  ধায়, ধায় চন্দ্র মেঘের ভিতর ; শেষ যামে
হঠাৎ-ই দেখলেন কবি, নড়ে উঠছে শঙ্খিনী বাক। 
বাক কি অম্ভৃণ-কন্যা,  নাকি যমী, আদি সহোদরা?
লুকিয়ে লুকিয়ে দেখি চন্দ্রালোকিত
তার নগ্ন মসৃণ উরু, অমর্ত্য নিতম্ব, শ্রোণীভার, আর শব্দ-তান্ত্রিক সেই কবি
পাঠ করছেন মন্ত্র ---
মন্ত্রের ভিতরে গুপ্ত ঋষি অথর্বান
বললেন, শব্দরা হোক  কবির সমিধ, যথাযথ  বিনিয়োগে কবি
ঈশ্বরের সমতুল, প্রতিস্পর্ধী  ; দেবী 
স্বয়ং গমন করবেন, সম্ভাষণ ও পানপাত্র হাতে।?


৫।।  খ্রিস্ট


যেই লেখার টেবিলে বসে আড় ভাঙি,টের পাই একটি গরগর
আঁচড়ে কামড়ে শব্দদের সুমসৃণ ত্বক, 
ছিঁড়ে ফেলছে ভ্রমর-গীতি, জন্মাদস্য যতঃ । 
আমাদের টম-কাকা বসে আছেন দু'হাঁটুর মধ্যে মাথা গুঁজে, 
উঠোনে পায়চারি করছে  রোদ। 
লোম নেই শরীরে তাঁর , 
কোঁকড়া-চুল , পুরু ঠোঁট, কুচকুচে কালো একটি অর্ধ-মানব?   
কে ভাগ্য নির্দিষ্ট করে? তুলোচাষ,খনি আর শিল্পবিপ্লব ? 
টের পাই একটি গরগর, কেবলই ভিতরে ফুঁসছে, 
আঁচড়ে কামড়ে ফেঁড়ে ফেলছে শব্দদের সুমসৃণ ত্বক ! 
কী বলেন ডারউইন সাহেব? 
মুলুক তার, 
বন্দুক উঁচিয়ে যারা ঘিরে ফেলল গাঁ,  
প্রাচীরের গায়ে লিখল : 
পৃথিবীর ফুল ফল , সারাটা বাগান আমাদের? 
বাগানের পাশ দিয়ে, দেখুন না, ঈশ্বরের শববাহকেরা
ঘোষণা করেছে জয়, মহদ্ভয় ----
জমদণ্ড হাতে এক স্বেচ্ছাচারিনী 
কোথায় সারকুঁড় হবে, 
কাদের হাড়মাস পচবে খড়কুটোর সংগে--জৈব সার , 
কারা-বা মাচায় উঠবে ,বৃক্ষ হবে, নির্বাচন করে রেখেছেন।
আমাদের টম-কাকা মাটিতে উপুড় হয়ে 
মুখ তুলে দেখলেন, চারদিকে 
ছড়ানো মাথার খুলি, থ্যাঁতলানো পায়ের পাতা, চেটো---
তাঁর মতো তিনি ডার্টি নিগার ছিলেন
 
 


°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

কবি সুজিত দাস এর কবিতা -

১।  সুজিত দাস আনপ্লাগড্‌/১০


পাহাড়ে অনেকদিন বৃষ্টি আর কুয়াশার পর রোদ উঠলে ইস্‌কুলে 'সানি ডে'র ছুটি হয়। আজ কলকাতায় এমন একটা সকাল ছিল। চব্বিশ ক্যারাট। নিখাদ। ঝকঝকে রোদ, নীল সাদা আকাশ, বৃক্ষ এবং লতাগুল্মের শরীরে অফুরান সবুজ। সানসাইন। মেড মি হ্যাপি।

সকালে অফিস যাওয়ার পথে সল্টলেকের একটা আইল্যান্ডে বুদ্ধমুর্তি দেখি। চারটে সোনালি তথাগত। বুদ্ধমুর্তির ডানদিকে আমাকে স্টিয়ারিং ঘোরাতে হয়। ডানদিক মানে ডানদিক। লেফট ইজ নট অলওয়েজ রাইট, সিদ্ধার্থ।

কয়েকদিন বাদে পঞ্চাশ। গোড়ালি উঁচু করলেই শ্মশান। মেয়েদের দিকে তাই তাকাই না  আর। একটা বয়সের পর মেয়েদের শুধু অনুভব করতে হয়। কোনও বালিকা পাশ দিয়ে জোরে হেঁটে গেলেও নিঃশ্বাস নিই না। হুগো বস কিংবা ঘামের গন্ধ যাতে আমাকে অপরাধী না করে তোলে। নিজের শরীরকে বায়ুবন্ধ করে ফেলি। ইরা আর পিঙ্গলায় নো বাতাস, নো হাওয়া। কী ভাল হয়ে যাচ্ছি, না? 

এই যে আমি ভাল হয়ে যাচ্ছি, এই যে কপালে দইয়ের ফোঁটা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি, এই যে চুলে পরিপাটি সিঁথি আর ব্রিলক্রিম। এই যে আমার মুখে বোরোলীন। গায়ে মফতলালের শার্টিং শুটিং, খুশি তো? আমাকে এই 'বঙ্গ জীবনের অঙ্গ' মার্কা নয়া অবতারে মানিয়েছে বেশ।
*
*
*
ভেতরে ভেতরে সেই গাছ হারামিই রয়ে গেছি। 
নদী আর নারীর মধ্যে যে ফায়ার ব্রিগেড, সেইখানে বহতা ঝোরা দেখি। কবি আর ব্যালট পেপারের মধ্যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ফেসবুক পোষ্ট দেখি। রাষ্ট্রপ্রধান আর ফার্স্টলেডির মাঝে আমি শুধু মনিকাই দেখি। মনিইইইইকা... ওহ, মাই ডার্লিং।

বাইরে বাইরেও আমি এক চরম বিপ বিপ বিপ। যেখানে হাসার নয় হেসে ফেলি। রবীন্দ্রসদনে বেজে ওঠে আমার 'কী অসভ্য' মোবাইল। ওহ্‌ বেবি, ডল মে সোনে দি...। গ্রীনরুমে ঢুকে যাই অসময়ে। ঘুমের স্টেশনে দাঁড়ানো টয়ট্রেনের ইঞ্জিনে উঠে পড়ি মাঝরাতে। ভরদুপুরে মিনিভেট পাখির বুক দেখি। শুঁকে ফেলি বনতুলসির ঘ্রাণ। স্ক্রু পাইনকে বলি, আমি তোমারই মেহ্‌মান।

আছি এইখানে। কাম আর ক্রোধ নিয়ে আছি। দেওয়ালে ডি কে লোধ নিয়ে আছি। আছি, ভেরি মাচ আছি। আমার সকল খারাপ নিয়ে বসে আছি সাড়ে সর্বনাশের আশায়। আনপ্লাগড্‌।
 
ইয়ে দুনিয়া পিত্তল দি।



২।।   সুজিত দাস আনপ্লাগড্‌/৫৫


কতদিন বলেছি তোমাকে, অক্সব্লাড রঙের শাড়ি পরবে না। এমনিতেই শাড়ি খুব জটিল ছায়া। কোথাও পড়ে, কোথাও পড়ে না। শিফন যে কীভাবে ঋতুচক্র পালটে দিচ্ছে, 'ধরতেও পারবে না'। তার ওপর এই রক্ত রঙের প্রহেলিকা! এই তো জীবন আমার, খুন করে বাড়িতে গেলেও বাহবা পাবে না। নান্‌হা সা জান। মারতে হলে টর্নড্‌ জিন্সে মারো, টিউব টবে মারো, কালো থং-এ মারো। আবার শাড়ি কেন? অ্যাম্ফিথিয়েটারে কত লোক বসে আছে, জানো! এই প্রকাশ্য গোধূলিতে আমাকে এভাবে নক আউট করে দেবে? দোহাই, অক্স ব্লাড রঙের শাড়ি অঙ্গে জড়িও না। হাড়ে সুই বিঁধে যায়। কিংবা মাঘের রাত।

কতদিন বলেছি, বৃষ্টির দিনে জঙ্গলে যেও না। এক একটা দুশ্চরিত্র পুরুষ ময়ুর পেখম তুলে টিজ করবে তোমাকে। ময়ূরের পালকে সহস্র চোখ। দেখে ফেলবে আদিগন্ত। অরণ্য এক গোপন সিকিউরিটি চেক। না বলেকয়ে খুঁজে নেবে কনুইয়ের কালো, ব্যক্তিগত লাল এবং নিজস্ব ঘ্রাণ। যে ঝিঁঝিঁ ডাককে তুমি শুদ্ধ আত্মা বলে ভাবো, সেও আসলে এক কাউন্টার এসপিওনেজ। এখনও সতর্ক হও। 

কতদিন বলেছি, প্রিয় আয়নাকেও তেমন বিশ্বাস কোরো না। আয়নায় নিজেকে সবাই পছন্দের কৌণিকে দ্যাখে। তুমিও। তাই একদম  বিশ্বাস কোরো না। পৃথিবীর সব গুপ্তহত্যায় শেষ রক্তের ছিট্‌ ওই আয়নার কাচেই লেগে থাকে। আয়না মোটেও জলের মতো সোজা না। এক সাঙ্কেতিক ফিল্মের মতো টুকে রাখছে তোমাকে। যা কিছু দেখছ সঙ্গোপনে, সবই রচিত হচ্ছে। কাচের থেকে বড়ো ট্যাবলয়েড, আর কিছু নেই। শোনো, অন্তত একবার আমার কথা শোনো। ইনডিসটিঙ্কট চ্যাটার বলে কিছু হয় না। ওসব সাবটাইটেলে থাকে।

মোটমাট, তোমাকে ঘিরে যে ষড়যন্ত্রের বৃত্ত, তার মূল কারিগর ষাঁড়ের রক্ত, অরণ্যের নির্জন এবং কাচের গোপন। এদের তুলনায় আমি খুব তুচ্ছ শভিনিস্ট। এসব জেনেও ট্রামলাইনের নিচে এমন নির্দ্বিধায় হেঁটে চলেছ?

সাদাকালো বলে কিছু নেই, সুচরিতা। হয় সাদা, নয় কালো। বাকিটা বিভ্রম।

যদিও আয়না তোমাকে টুকে রাখছে অবিকল। রঙিন।


৩।।  সুজিত দাস আনপ্লাগড্‌/৬৩


ভুটানঘাট পর্বতমালা সাদা চোখে দেখলে তুমি কিছুই বুঝতে পারবে না। এক অদ্ভুত হায়ারোগ্লিফিক্স। সাবটাইটেল চাই। ধরো প্রজাপতির দঙ্গল বসে আছে নরম কালো বালি মেশানো সুড়িপথে। আসলে তো বসে নেই। মেয়ে এবং ছেলে প্রজাপতির দল লবণ চেটে নিচ্ছে বালি থেকে, পাথর থেকে এবং মাটি থেকে। বেঁচে থাকার অবিমিশ্র রসদ।

কী জানো, সাবটাইটেল ছাড়া তুমি জীবনকেও বুঝতে পারবে না। এই ধরো দুই বেণী একটি মেয়ে। সবে ফ্রক ছেড়ে কুর্তি/কামিজের চৌকাঠে পা রেখেছে, তাকে তুমি কতটুকু চেনো? চেনো না নিশ্চয়ই। না চেনার অনেক সুবিধে। সে যদি তোমার অশ্লীল শিস উপেক্ষা করে, যদি সে তোমার প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করে সবিনয়, কিংবা খুব ব্যতিক্রমী এক নিখুঁত ইয়র্কারের মত সে যদি ফণা তোলে...

যে পৃথিবী নির্বাক ছবি দেখে অভ্যস্ত তার কোনও সাবটাইটেল দরকার নেই। শিস, প্রলোভন এবং ফণার বিপ্রতীপে কত বিলবোর্ড, কত ফুস্‌মন্তর, কত হনন এবং ভাঙানোর প্রক্রিয়া। একবার গ্রামের হাটে বলে দাও ও মেয়ে ভাল নয়, একবার শহরের পবিত্র চবুতরায় ফিসফিস করো ভাল নয় ও মেয়ে। এই গূঢ় ইঙ্গিত একলহমায় সব সবুজ কেড়ে নেবে তার মন এবং অদৃশ্য দোপাট্টা থেকে। ওড়না নেই কেন, বুক নেই তোর, বেহায়া মেয়েছেলে। যে ভাষা ইতরেরা জানে, তাতে সাবটাইটেল নেই।

ভুটানঘাট দেখনি তো কী হয়েছে, জয়ন্তী রিভার বেড দেখেছ নিশ্চয়ই। সুতোর মত নদী। অজস্র পুরুষ পাথর। যে প্রস্তরখণ্ডকে তুমি পেপারওয়েট বানাবে ভেবেছিলে, আসলে তা এক অবাধ্য পাথর। অনার্য ডুংগা। নদীর সঙ্গে তার আজন্ম বন্ধুতা। পেপারওয়েট না হতে চাইলে, শো-পিস্‌ না হতে চাইলে শিক্ষা দাও ওকে। তুলে আনো জলের গভীর থেকে। একা না পারো, লোক লাগাও। এবং ব্যর্থ হও। এবং দেগে দাও। শুইয়ে দাও অগণন নারীর সঙ্গে। পাথরকে হত্যা করার জন্য সুপারিকিলার ভাড়া করে কেউ? পাহাড় থেকে নামতে নামতে, এক একটা লাইন লিখতে লিখতে সে তো কবেই মরেছে। মরে পাথর হয়ে গেছে।

যে ভাষা বোঝো না, যে ইশারা ছুঁতে পারে না তোমাকে, সে ছবি এমনি দেখো না, দোহাই। সাবটাইটেল পড়ো। এতে লজ্জার কিছু নেই। মেক্সিকান উপকথার ঢালু টেরাইন, পাবলো এসকোবারের পাথুরে চাউনি... সাবটাইটেল ছাড়া হয় এসব! কমদামি সুপারিকিলার ফুটপ্রিন্ট রেখে যায়, রেখে যায় আধখাওয়া সিগারেট, জুতোর ছাপ।

মোটমাট, ভুটানঘাট পর্বতের প্রতিটা পাথরের নিজস্ব ঘ্রাণ আছে। আছে ব্যক্তিগত ড্রয়ার। কামাতুর প্যাঁচার মত সেও যদি বের করে আনে তামাদি হয়ে যাওয়া রসিদ, ব্যাকডেটেড বোর্ডিং পাস, আধখাওয়া মদের বোতল এবং গোপন কথোপকথন। তবে কেমন 'হবে' তুমি বলতো...

এমনিতে পাথরেরা সর্বংসহা। 
তুমি ঢিল ছুঁড়তে পারো, আগুন জ্বালাতেও।



৪।।  ওভাবে ডাকতে নেই, মণিমালা মিস্‌।


১। বাইলেন

আস্ত বাইলেন হারিয়ে ফেলেছ বলে দুঃখ কোরো না। শুধু তো একটা গলি নয়। ইটের দেওয়াল, দুধ জ্বাল দেওয়া স্টোভ, একটা আস্ত রেশন দোকান মায় ফেরিওয়ালার ডাকহাঁক। এতকিছু ডিলিট হয়ে যাওয়ার পর ঘুম আসে না। তবু কোনও না কোনও একটা বাইলেন তো তুমি মনে রেখেছ। রেশমের রাজপথ বরাবর ছুটে যেতে যেতে, জ্যোৎস্না এবং কুয়াশার ছিটকাপড়ে এই যে ফিরে এলে, এও তো অনেক।

২। কেউ বাড়ি নেই

কেউ বাড়িতে না থাকলে দরজা খোলা বারণ। চৌকাঠ ডিঙিয়ে হরিণের দল ঢুকে পড়তে পারে। ফাঁকা বাড়ি কি তবে এরিয়া ফিফটিওয়ান! একটা গোটা সুরেন ব্যানার্জি রোড ভেতরে চলে আসবে নির্জন ঘুঘুডাকের মতো? বাড়িতে কেউ না থাকলে নিঃসঙ্গ গীতবিতান পা টিপে টিপে হেঁটে বেড়াবে! অ্যাই, এভাবে দরজা খুলতে নেই। অসময়ে একা থাকো। থাকো নির্জনে। বলে দাও পরে আসতে, এখন বাড়িতে কেউ নেই। সবসময় সবাই বাড়ি থাকে না।

৩। রাত্রি এখন অনেক

জ্যোৎস্না দেখে মুগ্ধ হয়ে যেও না। এই গাঢ় আলোর আড়ালে এক আরকগন্ধী হিম লুকিয়ে আছে। সূক্ষ্ম ফাটলের মধ্যে জমে থাকা এই বিন্দু বিন্দু শীত একদিন আমাদের সকলের পোর্ট্রেট এঁকে ফেলবে। অন্দরমহলের সব ভাঙচুর টুপটুপ করে ঝরে পড়বে ট্যাক্স অফিসের বকুলগাছ থেকে। রাত্রি এখন অনেক। অন্ধকারের আড়াল লাল হয়ে উঠবে প্রহেলিকাময় তাম্বুলে।

৪। জ্বর

না বলে কয়ে আসা এইসব উত্তাপকে একেবারে বিশ্বাস করতে নেই। সে ঠিক তারিণী ডাক্তারকে বাড়ি নিয়ে আসবে। নিয়ে আসবে থিন অ্যারারুট বিস্কুট, সাবুদানার মতো মুক্তো। ভাত বন্ধ, স্কুল নেই। ওদিকে দিলীপ বাগুই-এর শট কাঁপিয়ে দেবে সরোজিনী সংঘের ক্রসবার। আর তুমি কেঁপে উঠবে অবাধ্য উত্তাপে। শরীরে রঘুডাকাত, কপালে জলপটি। জ্বরকে বিশ্বাস কোরো না। ক্রসবার আরও বড় বিশ্বাসঘাতক।

৫। রোলকল

সব শব্দে সাড়া দিও না। দু-একটা উপেক্ষা করাই ভালো। কতদিন সাড়া দিইনি মণিমালাদির ডাকে। তবু এক একটা সংখ্যা চোখ গেল পাখি হয়ে ডেকে উঠত দূরের চিকরাশি গাছ থেকে। 'খুকি হোক', 'খুকি হোক'। এক একটা সংখ্যা ভরা বর্ষার রায়ডাক। পাট শুকোতে দেওয়া শিলতোর্ষা নদীর সেতু।
 
ওভাবে ডাকতে নেই, মণিমালা মিস্‌।



৫।।  আমি ও অবিনাশ


এই মায়াজন্ম আর ভালো লাগে না অবিনাশ।
এইসব ক্লান্ত বিকেল, ফুটে থাকা সজনেফুল, দিগন্তপ্রসারী সেগুনের মঞ্জরি
কিছুই যে স্পর্শ করে না আর।

শিলিগুড়ি বয়েজ, পরিমল কেবিল, গ্রন্থভারতীর বাদামি মলাট...
এরা ফিরে ফিরে আসে কেন, অবিনাশ!

নির্মীয়মাণ দীনবন্ধু মঞ্চ, ওপারের ফর্সাদিঘি। জলের ওপর পারমিতা করের বাড়ি।
খাতায় ভাওয়াল স্যারের পাটিগণিত। বিট্যুইন দ্য লাইনস, ও কেন তখন উড়িয়ে আঁচল...
আর কেনই-বা বিকেলগুলো এখনও প্রতীক্ষার বাসরঘর?
ধমনিতে দপদপ করে ছোটোখাটো হাসি, গজগামিনী পদসঞ্চার। কেন, অবিনাশ, কেন?
এ কোন্‌ ট্যুইলাইট সাগা...
মৃত্যু আর সজনেফুল ছাড়া এই মায়াপ্রপঞ্চে আর কী-ই আছে, বল তুই।

আমি তোকে কোন্‌ অচেনা কৃষ্ণগহ্বরে নামিয়ে এনেছি!

এই ব্ল্যাকহোলে শুধু অবজ্ঞার নয়নতারা? শঙ্খচক্র নেই, ক্রিসান্থিমাম নেই, মেয়েদের ছেড়ে যাওয়া নেই,
ব্রহ্মতালু ফাটিয়ে দেওয়া বাগরাকোটের তোম্বাও কি নেই, অবিনাশ?
কে-কার চুনরিতে দাগ লাগায়,

কে-কাকে কতটা অপমান করলে স্তব্ধ হয় চরাচর।
কীভাবে জুতো মারলে ঠোঁট ফেটে যায়, শার্টের কলার থেকে খসে পড়ে অহংকার?
জানালায় পাখি আসেনি কতদিন, কতদিন নখ উপড়ে গেলেও ব্যথা টের পাইনি।

এই মায়াজন্ম আর ভালো লাগে না অবিনাশ।
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

কবি ঋত্বিক ত্রিপাঠী এর কবিতা - 


সংজ্ঞার বিপরীতে  
`````````````````````


বিপরীত
----------- 
সংজ্ঞার বিপরীতে কে বা কারা যেন দাঁড়িয়ে থাকে


মুখ
------
মুখ শব্দের মধ্যেই মুখােশ থাকে


 সাম্য
---------

সমতা কোনও দিন আসবে না বলেই মার্কস পড়ছি 


উধাও
-----------
কোথায় গেল দিব্যা ভারতী সুভাষ হারিয়ে, উধাও 


ধর্ম
------
ধর্মের প্রচারকরা অধর্মের আমদানি করেছে


প্রণাম
----------
একমাত্র ইরম শর্মিলা চানুকে প্রণাম করতে চাই



মাদুলি
--------
রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরাই মাদুলি বিক্রেতা 


সংবাদপত্র 
--------------
সংবাদপত্র আমাদের বাবা মা

জীবনবীমা 
----------------
না জানিয়ে বীমার টাকা কেটে নিচ্ছে ব্যাঙ্ক

শ্রদ্ধা
------- 
শক্তি কাপুরের মেয়ে শ্রদ্ধা! এও সম্ভব! 

বিভাজন 
-----------
পৃথিবীর তিনভাগ জলে ভাসছে একভাগ স্থল

 কর্তৃকারক
---------------
কারক সিলেবাসের প্রথম হল কর্তা 

কার্টুন 
----------
বিতর্কের পিছনেই থাকছে কার্টুন, সবসময় 
কর্মকারক
---------------
 সমস্ত কর্মের পিছনে কর্তা নাও থাকতে পারে

নিখোঁজ
-------------
নারী নিখোঁজ মানে পুরুষ আমদানি হচ্ছে 

লটারি
-----------
বামফ্রন্ট সরকারও রাজ্য লটারি চালাতো

 মা মাটি মানুষ
----------------------
 মা তো মানুষই, মাটি তাে জড়ই

মিসকল 
-------------
মিসকল দিলেই সদস্য, নেতা, প্রধানমন্ত্রী 


মাওবাদী 
-------------
মাওবাদী সম্মান গড়ে তুলছে পুনর্বাসন


সংখ্যা
--------
এককে দুভাগ মানে সংখ্যা আট


জয়
--------
সতীদাহকে আমরা জয় করেছি! কিভাবে!


 বিসর্জন
-------------
 গঙ্গায় আজও সস্তান বিসর্জন! নতুন কি আর!

ভয়
--------
রাষ্ট্রই আমাকে দেখাচ্ছে সবচেয়ে বেশি ভয়


পদবি
---------
বরং সংখ্যা ভালো, পদবি বাদ দাও 

কবি
-------
অসামাজিক আমরা সবাই কবি হতে চাই 


ভূতের বই
--------------
বিজ্ঞান মঞ্চ উপহার দিচ্ছে ভূতের বই


স্বাস্থ্য
---------
ছােটা রাজনের স্বাস্থ্যের ভার এখন রাষ্ট্রের


পাওয়া
-----------
না-পাওয়াও খুব এক রকম পাওয়া।


হিংসা
----------
ভালবাসতে না পারলেই করাে হিংসা! 


অহং
---------
সারা শরীর জুড়ে অলংকারের অহং

ভাবা
-------
তােমাকে ভাববো না বললেই ভাবা হয়


উৎসর্গ 
----------
যার সঙ্গে রোজ ঝগড়া, তাকেই উৎসর্গ

------------
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

কবি পার্থজিৎ চন্দ এর কবিতা -


১।।   আরণ্যক


ক্রমশ ফুরিয়ে আসা কুণ্ডের জলে জ্যোৎস্না পড়েছে

জল খেতে এসেছে হায়না বুনোমোষ নীলগাই

পাশাপাশি জলের দিকেই বেঁকে গেছে শঙ্খচিতির লকলকে জিভ

কাদার ভেতরে তারা ছটফট করে
ছটফট করে মোষের বাচ্চা

কুণ্ডের থেকে তারা পালাতে চাইছে

কাদায় আটকে গেছে বিষধর সাপ, জল খেতে আসা পশুর শরীর

ছটফট করতে করতে আবার তাদের তেষ্টা পাচ্ছে
আবার তাদের জিভ শুকিয়ে আসছে
ফুরিয়ে আসছে কুণ্ডের জল

এই মৃত্যুর মাথার ওপরে
লক্ষ বছরের জ্যোৎস্নার মায়া ঝরে ঝরে পড়ে



২।।  বিষাদসিন্ধু


সে প্রথম বোঝা গেল খাড়া ও দেবীর দিকে একযোগে তাকা্নো যায় না। তাই শেষমেশ হাড়িকাঠে ছাগশিশু মাথা নীচু করে নেয়। তাকায় মাটির দিকে। বাজো, সাদিয়ানা বাজো।এই গ্রহপথে বলির বাজনা যদি এতদূর, তবে তুমি তারও থেকে দূর ছড়িয়ে ছড়িয়ে পড়। সোহারির জলে বিষ। সোহারির মুখে হীরক ছড়ানো। কবে আর কোন পিপাসাক্লান্ত ঠোঁট এসব ভেবেছে! যে বলে গুপ্তহত্যা আমি তার দিকে চেয়ে হাসি, মনে মনে বলি, হত্যা গুপ্ত নয়, শুধু খাড়া ও দেবীর চোখের দিকে একযোগে তাকানো যায় না বলে ছাগশিশু মাথা নীচু করে নেয়



৩।।  জন্মদিনের লেখা


আলোর বর্গগতি ও অভিশপ্ত পারদের নিবিড় সংযোগ ২১ চৈত্রের বিকেলবেলায় এক কলসাকৃতি জরায়ুর পেটের মধ্যে ঠেসে ধরেছিল মেঘ; বা্যুঘূর্ণন। সরলবর্গীয় গাছ চিরকাল অতলের নাভিবিন্দুমুখী, ট্রলার ঘুরেছে একা। কোথাও পুকুরে সন্ধের ছায়া নেমে আসে। একটি একাকী শোল কালো জলে ঘোরে। নিজের খেয়ালা নিজেকে হারায়, আকাশের দিকে চায়। আঁধার ঘনাইছে বনে বনে…, ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন আদিম ওয়াট জলের ভেতর পুঁতে রেখে গেছে সমানুপাতিক অভিশপ্ত পারা। শোলের বিষাদমুখ তাকে ঠোকরায়

গ্রহপথে রাধামাধবের মন্দির ছিল, ছিল ইরানী গোলাপও। মনে পড়ে সে কবে জন্মেছিলাম চৈত্রবেলায়



৪।।  বাঁশি


তার চোখ থেকে আলো ছিনিয়ে নিয়ে গেছে প্রখর লুব্ধক

এ বন অন্ধদের
এ বনের ভেতর কালো মিনারেট

নেমে আসছে অন্ধকার

নিভে আসছে ঘড়ি
নিভে আসছে ঘন্টার প্রহর

পুণ্য সরোবরে, পুণ্য জলের ভেতর
শুধু বেজে উঠছে মদনমোহন বাঁশি
শেষবার




৫।।  অজ্ঞাতবাস শেষে


তারপর আপনি স্ট্র্যাটেজির নীল টঙ-ঘর থেকে নামলেন। অন্ধকার
ঘাসের ওপর বসে বললেন, কুরুক্ষেত্র একটি ধারণা, ধারণাটির সৃষ্টিমুহুর্ত থেকে
কুরুক্ষেত্র শুরু হয়ে গেছে। কুরুক্ষেত্র একটি অ্যমবুশ
কুরুক্ষেত্র একটি গেরিলাযুদ্ধ
এখানে স্লিপার-সেলের ভূমিকা অসীম। জকি ও নপুংসক হয়ে 
এই বিরাট-নগরে ক্ষমতার পেটের ভেতর ঢুকে যেতে হবে

আপনার কথা মতো আমরাও ছদ্মবেশের আগে গাছের কোটরে
লুকিয়ে ফেললাম অস্ত্রশস্ত্র। এক শুকনো-জরায়ু কাঠকুড়ুনির নলি কেটে
ঝুলিয়ে দিলাম গাছে, (যদিও অন্ধকার নেমে এসেছিল বলে তার মুখ দেখতে হয়নি)
ধীরে ধীরে তার মাংসে পচন ধরবে। বেরিয়ে আসবে কঙ্কাল
এই প্রেতগাছটির ধারেকাছে আর ঘেঁষবে না গ্রামের মানুষ

আপনার কথা মতো অজ্ঞাতবাস শেষে অস্ত্র উদ্ধারে আমরা এসেছি
পাখাপাখালির ঝাঁক তাড়িয়ে তাড়িয়ে গাছের কোটর থেকে 
বের করে আনছি লুকানো অস্ত্র। নড়ে উঠছে পুরনো কঙ্কাল

চোখের কোটর থেকে আমাদের পাঁচজোড়া হাতে তির তুলে দিচ্ছেন করুণ কুন্তী
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

কবি লক্ষ্মীকান্ত মন্ডল এর কবিতা - 


১।।   আকাশি রঙে আঁকা          


নেমে যাওয়ার পর বাঁকা তালগাছের অভিমানে আটকে গেছে আলো । তার ওপাশে আর কোনো কিছু দ্যাখা পাওয়ারই কথা নয় ।  নয় জ্ঞান , নয়  প্রজ্ঞা । কেমন করে দুঃখ ঢাকব আমরা । 

চাকার দাগে জমেছে কয়েক ঢোক জল , এই সত্যে কানশিড়ে লতাটি বাড়তে থাকে সূর্যেরর দিকে - সেখানেই  ঠোঁট ডুবিয়ে  জল কেলিতে মত্ত  ছাতার পাখির দল ।   এই সহজ স্বপ্নে মেঘ জমে  - 

হয়তো বা কাছেই কোনো গৃহপ্রবেশ । সেদিকেই ভেসে যায় নির্ভয়ের জ্বর । না বুঝেই কেউ কেউ ভাবে পারিজাত । এখন তো মিলনকাল নেই  -  ভীষণ রকম উষ্ণে হৈ হৈ করে সরে যাওয়া পোশাকগুলি - শরীর পার হয়ে  মায়াহীন মর্মর ।

সূর্যাস্তকে পেছনে রেখে স্নান করে সুডৌল নীরবতা ; ভঙ্গীতে চালা ভাঙা শ্বাস নিয়ে চোখ পোড়ায় বিদ্যুৎ । আর থামে না শরীরের ক্ষুধার্ত কৃমি ; ক্রমশ নেশালো হতে হতে পথ খুঁজে নিতে চায় উঠোন । সেই ভোর থেকে নয়নতারার অনাদর গুলি হয়ে যায়  সাদা  -

নীলিমায় স্বাধীনতা থাকলে আড়াল করতো না কোনো বাঁকের ঝোপ ।  কেউ কেউ পালাতে গিয়ে ভুলে যায় দীর্ঘশ্বাসের কথা । সারা গায়ে অনাদর । সারা গায়ে কালো  - নত চোখ তামাম প্রহর জুড়ে আকাশ নেমে আসা পুকুর থেকে হাঁস ওঠে আসে ডাঙায় - খুঁটে খায় কীট আর ঝরা শষ্য দানা । এ জীবন পথ হবে না কোনো দিন -

ডান হাতে পোলিও নিয়ে তখনও পুবে তাকিয়ে আছে আকাশি রঙে লেখা পাখির হৃদয় । 



২।।  নভোনীলের ফুলগুলি 


গাছ আর তারই শিকড়ের কাছাকাছি আসতে চেয়ে এক গৃহের সম্মুখীন হলাম ,  তার দরজায় আতর মাখানো ওড়না , আর সারা গায়ে ঝুমঝুম শব্দে গান বাজছে , আমি আঙুল দিয়ে ছুঁতে চাইলাম লজ্বাবতী লতার সমস্ত আলো ,  হৃদয়টি আঁকা হয়ে ওঠেনি তখনও - মাথার ওপর তপ্ত সূর্যের জ্বালা ; কণ্ঠনালীতে এক মরুর হাহাকার - পান করতে চাই নাড়ীর ভেতর সমস্ত নির্যাস  - এ কোন পাতাল?  - সমস্ত ফুলগুলি এক সাথে ডাকিয়া উঠিলে তবে তো পূর্ণতার আশ্চর্যে অন্ধকার দাঁড়িয়ে থাকবে নির্বাক   -  

এতো মৃত্যু নয়  -  এক প্রকাণ্ড সরোবরের তীরে আমি আমারই ছায়া দেখিতে পাইলাম -  যে কেবল আঁকিয়া বাঁকিয়া পাঁকের মধ্যে খুঁজছে নিরন্ন ভেটুক  --




৩।।  তিতির   এবং  বিষন্নতা 


হৃদয়ের মাঝে যেসব সূর্যমুখী ফুটে আছে, তার নিঃসঙ্গ দোলায় কয়েক জোড়া তিতির নিঃশব্দ ; জমির পাড়ের গন্ধ জুড়ে পঞ্চস্বর  ; বৈধ্যতা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই এখনো ,  সূর্যের আলো ছড়িয়ে আছে কামুক ডিবি থেকে প্রশান্ত বিল  - 
রিক্ত পত্র মর্মরের কাছাকাছি অভিমানী আগাছা - দোষ কারও নয় - এটা বোঝাতে পারিনা কখনো,  বোবা পুরুষটির সারা গায়ে কর্কশ,  ঝোপের মাঝে হারিয়ে যেতে তুলে নেয় একগুচ্ছ ভাট ফুল - 
প্রতিটি রিপু মাঝে একটি পদ্মাবতী ; পদ্মানদীর মতো অন্তর্লীন।  তার বিভঙ্গে কিছুটা মেঘ। ; তবু বাকল ছাড়ানো অর্জুন গাছের চকচকে শরীর থেকে ভাবনাটা সরতে চায় না কিছুতেই  - 

প্রজাপতিরা উড়ে গিয়ে বসে বোরোধানের প্রদীপে  -   

বিকেল উড়ে গেলে চাঁদের দিকে তাকাই - শালিক সংকেতে  হাড়ময় রমনীটি  হলুদ প্রজাপতির ভঙ্গী ;  মাটির নিরীহে  সাজিয়ে দেয় ঠোঁটের উপকূল  - 
আলো কমে যাওয়া মাঠের ছুঁই ছুঁই শীত,  নিচু স্বরে মায়া পেখম চমকে দিয়ে নিয়ম মাফিক অশ্রুবোধ ;   মগ্ন দিগ্বিবিদিক  ; এক সমুদ্দুর পাখি ওড়ে মোহনায়
চারপাশে ছড়িয়ে আছে ভেজা স্বাদ,  দীর্ঘরাত পাড়ির সুপার মুন ;  জলরঙ মিশে গেলে -  ধোঁয়ার আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে সন্ধ্যারূপ কৃষ্ণকায়া

সংগ্রামী অম্বা কেন যে শিখণ্ডী হলেন



৪।।  নিরুপায় এক স্পন্দন  


আমার কোন ডাকঘর নেই। খাঁ খাঁ মাঠের পাশ দিয়ে নয়ানজুলি, তার জল শুকিয়ে যাচ্ছে মায়াহীনতায়। সাদা সাদা ভাঁট ফুলের উপর ধুলোর ছাপ দেখেই মনে হতে পারে এটাও কোন রাস্তার ধার। এবং কিছু শুকিয়ে যাওয়া লঙ্কেশ্বরী গাছে মরনের ইশারা। চলাচল শুরু হয়েছে মাটি মাড়িয়ে, কত লোক চলে যাচ্ছে এই ঝরা পাতা সময় নিয়ে। আসলে গাছে কয়েকটা পাখি বসে আছে। বসে আছে পলাশের রঙ।


নিরুপায় এক স্পন্দন, মনান্তরের ঠিকানা নিয়ে দিগন্তের বলাকা হয়ে যায়—



৫।।  বিমর্ষ স্বর  


তাকিয়ে  থাকো  - সম্মুখের রাস্তার দিক থেকে যে উদভ্রান্ত বাইকটি ছুটে আসছে ,  সে তোমাকে কাদা ছেটাবেই  - ছেটাবেই এবং জর্দা পানের পিকের জন্য ও প্রস্তুত থাকতে পারো  - কেননা পানের নেশা না থাকলে বারো থেকে সহজে ষোলো হওয়া যায় না । বাতাসে যে জল কণা অপেক্ষা করে আমিষ গন্ধের  - সেও ফুটপাত ঝাঁপাবে  

যদিও এখানে কোনো ফুটপাত নেই , নিটোল এক মোরাম রাস্তা , খোপ খোপ জল ধরা নক্সাদার পানমৌরি দ্বীপ । পা বাড়ালে পথ , নয় তো অবাক পাতার ভিড়ে শরীরে জমে থাকা আজীবন ধুলো  - বৃষ্টি পড়ে তারই উত্তাপ বেলায়  - পাখির ঢঙে বিমর্ষ স্বর । ছুঁয়েও দেখেনি  - পিচ রাস্তা দেখে ফেলা নির্বাচিত কোনো  শাসনাধিকার । 

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ঝরছে কিছুটা স্বপ্নের দিকে । উড়ে যাচ্ছে লাবনি নামের তৃষাতুর আসাবরী , দিগন্ত বিস্তারের  জীর্ণ রোদ্দুরের কথা আর নাইবা বললাম । শিক ভাঙা ছাতার আবছা আড়াল নিয়ে চারপাশে ঘন হয়ে আসে সংক্ষিপ্ত সময়  - সেই বোধে চলৎশক্তিহীন পথ । কত আঁকিবুঁকি ; শরীরের রক্ত ক্ষরণ ।  

ভয় পাওয়া উচিৎ নয় কখনোই । এই নগ্ন মহিমায় তীব্র হতে থাকে দীর্ঘ শ্বাস ।  তবুও অদৃশ্য হয়ে যায়নি শব্দরা , সেদিকে তাকিয়ে আমিও ডাকতে থাকি শব্দের কাছাকাছি দৃশ্যগুলিকে, পদে পদে কাঁটা পোঁতা পথ নিয়ে অগাধ দূরত্ব - কবে আসবে উষ্ণতা ; প্রতীক্ষায় ভিজতে থাকে নাকের ডগায় ছুঁয়ে থাকা অস্থিরতা --

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

রবিবার, ২১ জুন, ২০২০

কবিতা বৈঠক পর্ব


জলের কখনো মৃত্যু হয় না 
দিশারী মুখোপাধ্যায় 


গতকালও এইপথে গিয়েছিল জল 
কাঁধে ঝোলা ব্যাগ নিয়ে 
অস্ফুট যে গানের কলি প্রশ্বাসের মত ঘুরছিল তার চারদিকে 
সেখানে কিছুটা আশ্রয়ের শব্দবিহীন স্পষ্ট উচ্চারণ ছিল 
আজ তারই মৃতদেহ ঘাতককে যীশুর চোখে দেখে 

এখন সেই জল আসছে আমার দিকে 
আমি কী আর এসব নকল পোশাক পরে থাকতে পারি 

গতকালও যে পথ আমার প্রতিবেশি ছিল 
আজ সেই পথই আমাকে আসনের পরামর্শ দিচ্ছে 
আর জল আমাদের দুজনের মাঝে 
আইনকে সিদ্ধ করার জন্য তাপ দিচ্ছে 

জলের কখনো মৃত্যু হয় না 
ঘাতকরা বুঝবে একদিন

                                            অলঙ্করণ - মেহবুুব

শনিবার, ২০ জুন, ২০২০

কবিতা বৈঠক পর্ব


কাঁচের মার্বেল : নত সূর্যমুখী

অঞ্জন দাস

ফুল থেকে পাট পাট লাবণ্য ওড়ে
ভ্রমণে পাতাভর্তি কাঁচের মার্বেল, নত হও সূর্যমুখী
ভিক্টোরিয়া ভেঙ্গে পুরোনো অস্ত্র সব ছুটে যায় ফটক পেরিয়ে
বাতাসের বৃত্ত ঢেউ- দাপট আছাড় খায় কোমর পেটিতে
ছলকে ওঠে পদ্মবন  তছনছ শৃঙ্খলা ঠিকরে বিদিক শূন্য
অজস্র ভ্রমর
ফুল থেকে পাট পাট লাবণ্য ওড়ে
পেমিকা শহরে হাঁটি বাণপ্রস্থ
মাথা ছাঁট ঈশ্বর আমাকে তোমার মতো স্মার্ট করে

অলংকরণ - মেহবুুব

০৬ আষাঢ়,১৪২৭

শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২০

কবিতা বৈঠক পর্ব

   
ফেরিওয়ালা কাক

বিপ্লব ভূঞ্যা


ফেরিওয়ালা কাক সংগ্রহ ঘরনায় ডাকে
তার উচ্চারণ কিছুই বুঝিনা আমি
তবু দেখেছি প্রদীপের কোলে বেড়ে ওঠা আগুন ধারন শেখে পোড়া মাটির কাছে
অপেক্ষায় বনবাস ছিল, ছেড়ে দেওয়া ছিল
আমি বন্দরে দেখি জমে ওঠা পলির স্বর্গ
আমাদের ঘর, লক্ষী পায়ে স্যাঁতসেঁতে চিহ্ন
মাটি কাঁকড়ার গা ছুঁয়ে আছে আদিবাসী হাত
চোখের জ্বল জ্বল সাহসী বাঘ

চিহ্ন বললে ধ্বংস বলবে - ইতিহাসও বলবে তুমি...
অলঙ্কন- জয়নুল আবেদিন
সংগ্রহ- ইন্টারনেট

০৫ আষাঢ়,১৪২৭

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-৩ হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়‌ এর কবিতা - ∆ লুকোচুরি  ক্রমশ রাত গভীর হলে অন্ধকারে আমাদের আজন্মের লুকোচুরি শুরু হয়  ...