আমার ব্লগ তালিকা

শুক্রবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-৩

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়‌ এর কবিতা -

লুকোচুরি 


ক্রমশ রাত গভীর হলে অন্ধকারে আমাদের আজন্মের লুকোচুরি শুরু হয় 
মিউট করা টেলিভিশনে আলোও তখন ম্লান হয়ে আসে আজব সে চু কিত কিত ,কবাডি কবাডি খেলা
ছোটাছুটির মাঝে এক সময় ললিতা বিশাখা হাতের মুঠোয় উঠে আসে, ধরা দেয় ঊর্বশীর নগ্ন শরীর 
মোহ ময় লাস্যে যেন মোম ,যেন কস্তুরী মৃগ
দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের মতো ঝুনে খামচে অদ্ভুত সব হযবরল. ..দাঁত বসিয়ে দেওয়া. ..ঠোঁট থেকে ঝরতে থাকা রক্তের লালা , ,নোনাস্বাদ চোখ জ্বলজ্বল করে ওঠে তবু কেউ কাউকে দেখতে পাই না. ..
সংঘাতজটিল পিঠ থেকে ক্রমশ নেমে আসা পার্বত্যভূমি কেঁদে কঁকিয়ে ওঠে, কবিরা শুদ্ধাচারে
যাকে বলে জঙ্ঘা,যেন প্রতি অঙ্গ কাঁদে রতি মহারণে
পা থেকে মাথার চুল অব্দি নিঃশ্বাস উদ্গীরণে
অধীর হয়ে ওঠে যেন মুহূর্মুহূ কেঁপে ওঠে সসাগরা 
মেদিনী, রেকটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা সবিশেষ 
পূর্ণতা পা য় ,সেও যেন বলতে চায় ,আর নয় আর নয় স্বর্গ মর্ত্য পাতাল যে ধ্বংস হয়ে যায় ......


জোৎস্নার ভাষা


আমি কিছু বলার আগেই সে আমার দিকে বাড়িয়ে দে য় হাত,আমি কি এই হাত স্পর্শ করবো,টেনে নেব বুকে. ..? জানিনা সমস্ত কথায় আজ কথার কথা হয়ে ধরা দিচ্ছে মথুরার হাটে
ক্রমশ তোমার ছায়া দেখা যায় 
শহরজুড়ে মেঘ জমে ,বৃষ্টি পড়ে 
সুয়োরাণি দুয়োরাণি আমাকে দেখায় ...
কী যেন মায়া তার শরীরে, ফেলে যায় গতিপথ সবুজ
ঘাস ও সোনালী ধানে ,গোপন কথার মতো 
মিলনের আনন্দ স্বপ্নের কাজল এমনকি পার্বতী ও পরমেশ্বরের অলৌকিক ষড়যন্ত্রে চিকচিক করছে তখন ভালবাসার শালগ্রাম শিলা 
কিন্তু কোনও ছবিই আজ স্পষ্ট নয় ,মনে হয় 
প্রেম ভালবাসা আঁকতে আঁকতে ঘৃণা ঈর্ষাকাতর 
ক্রোধ ঢেউ গুনতে গুনতে রাত্রি কাবার হচ্ছে শুধু 

ভাবছি, অন্ধকারের আলো আর জ্যোৎস্নার ভাষা তাকে ঠিক শিখিয়েই ছাড়ব, তবে অবশ্য শেষপর্যন্ত 
সে হাত সরিয়ে নেবে কীনা জানিনা ......

 
দৃষ্টির বদলে হাসি


দৃষ্টির বদলে হাসি তুমি শিখিয়েছিলে,অক্ষরে অক্ষরে 
আমি সারাজীবন তা পালন করে গেছি 
এখন বিভ্রমের অনুশীলন না অনুশীলনের বিভ্রম ,
অন্ধকারের বেদনা না বেদনার অন্ধকার জানিনা
আন্দোলনের যন্ত্রণা না যন্ত্রণার আন্দোলন প্রতিদিন 
প্রতিমুহূর্তে আমাকে তিষ্টোতে দিচ্ছে না
কুরে কুরে খায় যা আমার না কিংবা ছিলনা কখনো 
তাকে ছোঁয়ার প্রবণতা কি ঠিক ? 
ভাগ আর বাটোয়ারা কি এখনো সমার্থক শব্দ অভিধানে ,আগুনের সঙ্গে ঘিয়ের তুলনা করতে গিয়ে আমি অন্ধ হয়ে গেছি অথচ ঋতুভেদে বৃষ্টিপাত এবং প্রবল বজ্রপাতে প্রলয়তো বন্ধ হয় নি. ....


ঘুড়ির সঙ্গে সুতো আর সুতোর সঙ্গে ঘুড়ি 
যেভাবে লেপ্টে থাকে সুখের সময় দুঃখ 
আর শান্তির মধ্যে অশান্তি ঠিক সেইভাবে আমার জীবনে লেপ্টে আছে মানুষ কেন অহংকারী 
জল কেন নিম্নগামী ,পোষা কুকুর কামড়ানোর আগে 
কেন মালিকের মুখের রেখায় একবার তাকায় 
বিস্ময় , এসব তুমি শেখাওনি কেন আগে 
তাহলে বুঝতে পারতাম খাম থেকে গোলাপি চিঠি বের করার আগে কোনো উড়ানের স্বপ্ন দেখতে নেই...


ছবি - মেহবুব গায়েন
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০

কবিতা

শাপলা পর্ব -৬


কবি মঞ্জীর বাগ এর কবিতা-






১।।  ∆ হরিণ ∆

 

ওরা ছুটে ছুটে আসে
নিভৃত বনের ভেতর সবুজ দিনান্তের আলো।
 শিং যেন বৃক্ষ ঘুমন্ত রৈখিক সরলতা
মোহ মাখা চোখে ওরা দেখে
ওরা ছুটে ছুটে ঢুকে পড়ে দেরাজের কোণে
দানাশস্যের শিশি কিংবা মসলার বনে
নিভৃত বিচরণ চালের ড্রাম কিম্বা আটার কৌটো
অপছন্দ নয়
ওরা ছুটে ছুটে আসে
ভেজানো সাবানের বাক্স মেজে রাখা  বাসনের 
স্তূপে
তীর বেগে ছুটে যায় মায়াবী স্রোত
গৃহস্থ কাজের ফাঁকে কবিতার মতন।





২।।  ∆ জ্যোৎস্না রমনী ও সাইকেল ∆



রূপনারায়ন ভাসে
ভাসে, অমোঘ ভাঙা চাঁদ জ্যোৎস্নার জলে
সবুজ অন্ধকার একা এবং একা গুটিসুটি
চাঁদ ও জ‍্যোৎস্নার নিবিড় কথকতা আঁকে রাগ
অর্থে নিভৃত অনুরাগ,বিব্রত সময় 
অসময় অভিসারে

অভিসার কথাটির আগে কোনো বৈষ্ণব গোঁসাই
রাধা নামটি যোগ করেন তবে বাজে নিভৃত মঞ্জীর
চাঁদ বেয়ে নেমে আসে ঠোট,,গাছের চাঁদ মাখা পাতায়
অলীক খুনসুটি;আহা চাঁদ এসো
ওই দেখো মনিরুলের সাইকেল ঘর

গাঙচিল শেষ ডানাটি ঝাপটিয়ে উড়ে গেছে
সন্ধ্যার পূর্বের গানে।গান আহা মোহময় প্রকাশ
নীল জ্যোৎস্নায় পড়ে গেছে দোকানের ঝাঁপ

টায়ার স্পোক নাটবল্টু টাইট দিতে
 সোনালী জোনাকী হয়ে ওঠে কবি
ব্যাক লাইট এখন অনন্তের অন্তর ছুঁয়ে
একটু ঘুম দিতে পারো

এরপর তীব্র ক্লাইম্যাক্স
মাঝরাতে নেমে আসে পরী
ডানা  তার কালো রাতচাদর
এখন সে গৃহ এবং নারী

সে উড়ে এলেই রূপনারায়ন ধুয়ে দেয়
মনিরুলের ধুলোমাখা হাত,এখন তার হাতে কলম
কলম ছুঁয়ে সে এক হাতে সে জড়িয়ে থাকে পরী
আলতা মাখা পা পায়ে পায়ে ছুঁয়ে যায়
চাঁদ আর কোজাগরী পূর্ণিমার আলপনা




৩।।  ∆ নির্বাচিত কবিতা ∆



রাত্রির মাঠে খেলাধুলা হলে
চেটে খায় দুরন্ত কুমির
পারিজাত ফুলের গল্প শুনিয়ে নিয়ে এলো এক দুরন্ত নাবিক
এক বনে যেখানে শুয়ে আছে অতীত কঙ্কাল
অপাপবিদ্ধ কুমারী যেন পুষ্পপাত্র ভরে দেয় অন্তর্জাত  গান
চতুরদংশক ডেকে দেয় যুগান্তের পাপ
জলে চাঁদ ভেসে বেড়ায় সেও জলের গভীর 
এ গভীরে লুকিয়ে আছে অনিবার্য মৃত্যু
শব্দের এক জাদু মহিমা আছে
জাদু জানে সেই জাদুকর।সেই করে সম্মোহন
 শব্দের মালা গেঁথে গুন করে বাণ
 কখনো সেই বাণে অষ্টাদশী চাঁদ চিতা হয়ে ভাসে
দেবী অন্নপূর্ণার একান্ত ভাতের হাড়িতে ফোটে কালো কাঁকর
 নির্বাচিত কবিতার পাতায় পাতায় ভাসে অজস্র সুঘ্রাণ।





৪।।   ∆ ব্লক ∆



পরিযায়ী হাওয়ার সাথে উড়ন্ত দুপুর 
মেয়ে পুরুষেরদল আধরঙা খুচরো 
বিষন্ন বিস্তার আধুলীতে বেঁধে রাজধানীর 
পারাপার ঘাট
 স্যাটেলাইটীয় চোখে দেখে যায়
 টেলিভিশনের জমায়েত।

দুঃখের অনাদি গান লিখবে বলে যে অমিয়বালক
এখানে ওখানে ভুলভাল ঘোরাঘুরি করে,
সে ঠিক
আমারই মতো বেকুব উজবুক, 
কত ভুল করছি
জীবনে হেসে অবহেলায় তার গুনতি সেরে ফেলি
মা লক্ষীর কুনকে কম পড়ে 

তুমি খুব গুছিয়ে  হিসাব করো অনুদিদি, কবির ওয়ালেট
আমার কেবল পেঁজা পেজাঁ জল ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘের মতন
একবার যদি দেখে নিতে মিতালী পুরান, তবে আমরা দুজন মিতে অম্লশূল সই

সর্ষের ক্ষেতে ছবি আঁকে হলুদপাখি গান
পরিয়ায়ী শব্দের ভারে কেঁপে যায় বুক

একটি পরিযায়ী পাখিকে মেয়ে বন্ধু বলে ডেকেছিল
সামাজিকতার লাল রেখা আঁকা যায়নি বলে 
গুঁড়োগুড়ো দেড়দিনের সাজানো  সাংসার

সাংসার সাজাবে  হাঁড়িকুড়ি বাসনীয় গান
আমার আর কবিতার মাঝে ঘুমিয়ে আছে 
আমাদের  মেয়ে পরিজাত ঘোর স্বপ্ন প্যাস্টেল

নির্জন পৃথিবীর  পথে এখন লগডাউন। সবটাই ব্লগ
প্রতি সকালের মাদকতা জল।টাইমলাইন দেখি কবিতা ভাইরাস।

আতঙ্কে থাকি উন্মাদিনী রাই ডুবে যাই যদি কোলাজ  রঙ জল
তার চেয়ে ব্লক করে দিই কবিতার প্রোফাইল 

অনুদিদি,   আমি ডুবে যাচ্ছি গভীর গভীরে
ভয় করছে আমার

দিদিভাই; তোমায় কি এ বার ডাকা যায়





৫।।   ∆ মা নদী ও গান ∆



নদীর জলের চলাচলে যে গান লেখা থাকে
তার সফল সঙ্গতে মিশে থাকে আর্য রমনীর 
বেদগান ঋত্বিকহোমাগ্নি বেদ মন্ত্র ধ্বনি। সিন্ধু এক
 নদীরনাম নয়;সিন্ধু একটি সভ্যতা। এইসভ্যতার নাগরিক গানে আমি স্নানাগার কিংবা শস্য ঘর
আমাকে এইভাবে আঁকা যায় যেন
ধ্বংস স্তুুপ থেকে পাওয়া নিসুতো রমণীয় গান
গান বলতে মোহময় সুর যদি বলো তবে  আমি যোগ্য সঙ্গত।
 নদীর জলের সাথে ভেসে ভেসে হয়ত এখন
আমার ভিতর জন্ম নেবে ধান গান।এখন আমি মাটি।মাটি ভিতর ঘুমিয়ে থাকে যে আস্পৃহা
বীজ হয়ে অঙ্কুরোদ্গমের কথা লিপি।
লিপিলেখা ছিল আলতামিরার গুহায়।এক তীব্র বাইসন নতুন প্রস্তর  যুগের শিকার লিখেছিল

শিকার জীবনের সত্য। বাঁচার আকাঙ্ক্ষা য় কেউ 
শিকার হয় কেউ শিকার করে।
এসময় শিকার হয় অবোধ বধ্য নৈতিকতা র পীঠভূমি

নদীর তীরে বসে আছি।এখন জল স্বচ্ছ নেই আর।

স্বচ্ছতোয়া গঙ্গার শুদ্ধতা এখন পরিহাস
নদীকে শুদ্ধ কুমারী রূপে বয়ে যাওয়া..
ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের মতো দেখি

বসে আছি।হেরে যাওয়া স্বপ্ন জড়করে
এখন বাতাসে ভাসে  কটু ভেঙে যাওয়া ঘ্রান
চিতায় পোড়া চর্বি মাংসের গলেগলে পড়া
মরাকাঠ
তবু নদী পলিভরা বুকে শ্বাস গানের কথা বলে
তৃষিত জরায়ু ভরে যায় অমৃতবীজ

এসো জল;মা হই গান হই পৃথিবীর মতো

এদূষনের মধ্যে একটি চড়ুইয়ের বাসা এবং
আকাশের নীল রঙে নদীরজল মিশে
মধুবনী গ্রামের দেওয়ালে একটা নতুন
সভ্যতা বিনম্র ছবির মক্স আঁকে::
এমুহুর্ত আকেন্দ্রবিস্তার থেকে
 বীজের গর্ভধান গান 
 হোমাপাখির না ওড়া ডানায় আগুন ও বিদ্যুৎ 



অলংকরণ - পৌলমি দেবনাথ

::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০

কবিতা

শাপলা পর্ব -৬


কবি অরিন্দম প্রধান এর কবিতা-





১।।  ∆ বংশপুরুষ ∆



একটা ঘর এগিয়ে এল আমার দিকে
সর্বক্ষণ টর্চ দেখিয়ে গেল
ঘূর্ণি বাতাসে ফুলের পাঁপড়ি দুঃখ ভুলে
নৌকার পালে সাহস জোগায়
পাতা হাতে মা ভাতের অপেক্ষায়

একটা তালপাতার চাঁটাই দরকার

ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন বাবা
ঝুঁকে পড়া শরীরে সাজিয়ে দিলেন
এক পংক্তি দু পংক্তি...
পুরো ঘর জুড়ে শ্বাস-বায়ুর চলাচল

বাবা কান্ড হয়ে ধারণ করছেন আমাদের বংশপুরুষ...





২।।  ∆ শহর ∆



আলো নেভা দুর্দিনে কাঁপছে শহর
ছাদে শুকায় সস্তা ঘর-বাড়ি
কুমারী ছুটে ছুটে প্রান্তর কাঁপিয়ে এসে
নির্জন শাড়ি মেলে ধরে বুকে
বৈদ্যুতিক তারে ঘর-মোছা কাপড় ঝুলে

আশ্চর্য মানুষ তুই!

টিভি চ্যানেলে রঙবাতি জ্বলে

মেঘে মেঘে কথা হয়ে যায়
কালের সৌম্যরূপ ঢুকে পড়ে ঘরে
পথিকের চোখ নিভু নিভু

এহেন দিনে পাখি দুটি ধরা পড়ে।





৩।।  ∆ উঠোন ∆



নীচের দিকে তাকাই--একগুচ্ছ ধানের শীষ
রেখে গেছে মলিন বসন লক্ষ্মী
উৎসবের ধান
আলোছায়া রোদ জুড়ে বসে আছে উঠোন
ঠায় দাঁড়িয়ে লৌকিকতা

নীচুস্বরে বাতাস খুলে দেয় দরজা
দু-পা সিঁড়ি ও অনুভবে
উঠোন গোবরজল শুদ্ধ হল।





৪।।  ∆ জলতরঙ্গ ∆



চাঁদ এসে জলে পড়লে ফুঁপিয়ে উঠে তল
আমি খড়কুটো হয়ে ভাসতে থাকি
পূর্ণিমার জলে

এতো হাসাহাসি জলের মধ্যে ভালো দেখায় না

কত স্বর নেমে আসে স্পর্শ, কমা, কোলনে
আকাশের মেঘ ভয় পেয়ে লুকিয়ে রাখে চাঁদ

পূর্ণিমা বন্দর বদলায়
নিস্তেজ জলে চলে আমরন অনশন।




৫।।  ∆ মায়া কাক ∆



অন্ধ সময় বৌদ্ধগুহা ভেদ করে
ভেঙে ফেলে মানবিক দেওয়াল

মাটির শব্দে চাপা পড়ে প্রতিমা-চোখ
ঝড়ের বাসায় পালক উড়ে আসে

রঙের প্রলেপে ডানা ভারী হয়
সময়ের সাথে মায়ায় আবিষ্ট সূর্যদেব

রাত্রি ভেবে শিস দেয় একে অপরকে
মায়া কাক ও মেয়ে কাক




ক্যামেরা বন্দি - পৌলমি দেবনাথ

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

কবিতা

শাপলা পর্ব -৬


কবি প্রাণনাথ শেঠ এর কবিতা-






১।।  ∆ আলো ∆



চারিদিকে ছড়ানো মণিমুক্তো
বর্ণালি চোখে জড়িয়ে আছে আঁধার
পোয়াবারো ভয়েদের, পেতেছে জমাটি সংসার

এ বড় সুসময় আমাদের
সুরধাম ছেড়ে মরলোকে পথেঘাটে দেবতারা জমিয়েছে আসর
আঁধার-চোখে ঠাওর হচ্ছে না দানব না-কী ঈশ্বর

ভয়দের নিয়ে কথা হোক এবার
গায়ের রং, আকার আয়তন, গুণপনা-এইসব 
সব কোথায় কবে (কার আশিসে নাকি অভিশাপে)   ছিঁড়ে ছিল জন্মনাড়ি তার

এস বসি, খুঁজে দেখি অতীত বর্তমান
কালোয় না আলোয়- কোথায় অনায়াস বিচরণ
রাম জন আলি ভেদে কীভাবে বদলায় আবরণ।





২।।    ∆ অমরতা ∆



এতদিনে সম্বিত হল
উত্তুরে বাতাস দক্ষিণে যায়
ভীতরা ভয়ে দেখায় দাঁত নখ
সোজা হাঁটলে ডাইনে বাঁয়ে কোনদিকেই বাঁকে না পথ
এতদিনে সম্বিত হল
ভুলভাল জেনেছি কত
রোগ বিয়োগ গুণ ভাগ
 ইতিহাস ভূগোল বিজ্ঞানের ক্লাসিক্যাল তত্ত্ব

এতদিনে সম্বিত হল
আমি আমি করে বড়ো একা
ভুলেগেছি জল আলো মাটির এ দেশ
ফুল পাখি নদীর ভূবনডাঙা

এতদিনে সম্বিত হল
সঙ্গে যায় না কিছুই
হেজে যাওয়া ধন-সম্পত্তি টাকা-কড়ি
কেটে যাওয়া দাগ-ই শোনায় অমরতার বাণী।





৩।।    ∆  ঈশ্বরলিপি ∆



উচ্চকাঙ্খার সমানুপাতিক যুদ্ধ, সমান                                                         অনোন্যক জীবন
ইতিহাস সে কথা লেখেনি কখনো।

ভয়কে অনুবাদ করে ভূত ভগবান শয়তানের জন্ম
এই সত্য মানেনি শাস্ত্র।

বাতাসের অনির্দিষ্ট দিক, এই সহজ সত্য জানি না বলেই
দিকভ্রম হয়, গড়ি পূব-পশ্চিমের গল্প।

নামতে নামতে, ভাঙতে ভাঙতে অবিভাজ্য অবয়ব
স্বর্গ মর্ত্য পাতালের বানানো কাহিনি, পাপ- তাপের ঘেরাটোপে
কেউ ঈশ্বরমুখী কেউ ঘোরতর নাস্তিক।

রসেবশে মজে থাকি ফুল পাখি নদীর দেশে
ঈশ্বরের ঈশ্বর হওয়ার বাসনায় বাঁশ খড় মাটির পুত্তলি বানাই
বিসর্জণও দিই অবলীলায়
আর দিব্যি গড়গড়িয়ে চলে তাঁর জগৎ-সংসার।





৪।।   ∆ ঈশ্বরমতি ∆



একেই বলে খইভাজা কাজ
সবকিছু ফেলে, কালো চোখ আর কানা কান দিয়ে
সহজ ও কঠিন কাজের ফর্দ লিখি।

নীচে নামা সহজ
ভাঙা
অপমান করা
আরো সহজ খড়-মাটির দেবতা গড়া।

সোজা হয়ে দাঁড়ানো কঠিন
ঠিক পথে থাকা
ভুল স্বীকার
আরো কঠিন কালোকে কালো বলা।

তালিকা বানানো শেষ
ভয়রা অভিধানকে তালাক দিয়ে
পরে নেয় জমকালো পোশাক
আমাকে ভয় দেখায়।

থ মেরে দেখছে গাছ-গাছালি
ঘাম আর তপ্ত নিঃশ্বাস হারিয়ে
আমি ক্রমশ ঈশ্বরমুখী হয়ে উঠছি।





৫।‌।  ∆  ঝমঝম বৃষ্টি ও একটি রাত্রির গল্প ∆




যার ঘরদোর নেই সেই
মেঘ আর রোদের চাঁদোয়া খাটিয়ে মহল্লা বানায়
বাতাসের সঙ্গে ভাব জমায়, যে
সাত সমুদ্র পেরিয়ে তার জন্য বয়ে আনে রূপকথা।

সে রাত্রির নিস্তব্ধতায় অসংখ্য আলোকবিন্দুর                                                    ভিতর খুঁজে পায়
এক যুগ আগে মহানিস্ক্রমনে যাওয়া দুই                                                               অভিমানী তারা
যারা অণুক্ষণ তাকে চোখে চোখে রাখে।

সেই ছেলেটা জলকে জল বলে
ফুলের মালি
পাখির জন্য রোপন করে তারা, আর
পাহাড় কেটে কেটে হতে চায় ভগীরথ।

ইতিহাস ভূগোল আর পিথাগোরাসের সূত্র                                                ঠিকঠাক বোঝার আগে
সে হারিয়েছে দুই পরমধন।

খালি পা, দড়ি প্যান্টৈর শৈশব পেরিয়ে
ছায়াকে কায়ায় ধরে রাখার দিনে-কান্নারা
দলা পাকিয়ে উঠে আসে গলায়।

দূর আকাশের মমতাভরা আশিস জোছনা হয়ে
                                      সিক্ত করে আত্মজকে।




অলংকরণ - পৌলমি দেবনাথ

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

কবিতা

শাপলা পর্ব -৬


কবি সুদীপ্ত মাজি এর কবিতা-







১।।  ∆ চিত্রকল্প ∆




হাওয়া তাকে স্পর্শ করে, কখনও ঝাপট 
রৌদ্র দেয় শীতে তাপ, কখনও দহন 
জল তাকে আর্দ্র করে, কখনও সলিল-
                                    সমাধির মোক্ষে টানে 
                   কখনও বিবর 
কেবল দেখায় তাকে শূন্যপট... 
                     নৌকো-নেই-নদী 

ফুটো জাল কাঁধে একা চলেছে ধীবর! 






২।।  ∆ চৌর্যবৃত্তি ∆




তোমার দেরাজ থেকে 
সাদা পৃষ্ঠা চুরি করে আনি। 

অজস্র বকুলফুল ঝরেছিল, পূর্বজন্মে 
তুমি, মৃত্তিকার প্রসাধনে নিজেকে সাজিয়েছিলে 
                                       আজ মনে পড়ে। 

এনামেল করা নখ,তীক্ষ্ণ নখের স্পর্শ, শিহরণ 
ভুলে আজ ভাবতে থাকি, ভালবাসা খুব হলে 
                              সেপ্টিকের সম্ভাবনা বেশি। 
ভাবতে থাকি রক্ষিতের ভ্যারাইটিজ স্টোরে পাব 
               বোরোলীন,সুরভিত ক্যালেণ্ডুলা ক্রিম?

পলিত কেশের পাশে,তরুণেরা ইহপৃথিবীতে      নিজ বুকে এপিটাফ লেখে,শরীরে গজিয়ে ওঠে ঘাস ।

যাত্রাপথে পড়ে এই বধির বিষণ্ণ ভাঙা 
                                        প্রভাত-প্রদোষ। 
তবু মেঘ, অন্ধকার, কলঙ্কের কালো ভেঙে, 
                                           দু'হাতে সরিয়ে 
এই চৌর্যমনোবৃত্তি বেঁচে আছে বলে 
পতঙ্গের মরণোন্মুখতা নিয়ে পৃথিবীতে 
                                       এত গবেষণা! 

এই চৌর্যমনোবৃত্তি বেঁচে আছে বলে 
আমাদের জলযান আজও এত অলৌকিক 
                                           বলে মনে হয়।






৩।।  ∆ সারাংশ ∆




পাঁচটা-দশটা ফুটো পয়সার ঝনঝন আর
অ্যাসপিরিনের রুপো রাঙতায় 
ভরে যাওয়া লাল পলাশের দিন 

টিউশানি ড্রপ!  উদাস-পাগল 
পাখি উড়ে গেছে, শূন্য খাঁচাটি 
কাঠবেকারের হাল সঙ্গিন 

চপ্পলে আঁটা সেফটিপিন আর 
কামানো হয়নি দাড়ি -গোঁফ তার 
চায়ের দোকানে বেড়ে গেছে ঋণ 

'প্রেম' বিষয়ক গবেষণা এই 
সারসংক্ষেপে, হৃদজীবীগণ 
ছায়ায় দাঁড়িয়ে নোট করে নিন! 






৪।।  ∆ অপরাহ্ন ∆



শিশুতোষ সচিত্র বইয়ের মতন দিন। আর 
                         রঙে রঙে রাঙানো উষ্ণীষ 

আর কত ইচ্ছেপূরণের স্বপ্ন -- নন্দনকানন থেকে
                         নামা ইলশেগুড়ি 

আর কত বালুচরি মুগা ও রেশমকাজে 
                         ভরে থাকে স্মৃতি, তন্তুবায় 
নির্জন মাকুর দিকে হাত বাড়ায় ---- আর 

                               স্থবির রঘুডাকাত 
সাহসী ঝোপের মধ্যে ফেলে রাখা রণপা খুঁজে                                                                  যায়...





৫।।  ∆ সান্তালাবাড়ি ∆



জারুলের কাছে, অমলতাসের কাছে 
যেতে গিয়ে চেপে ধরছে ভয় 

           কেঁপে উঠছে চপ্পল 

ভয়ের ওপারে শিস্ দিচ্ছে দেখার রোমাঞ্চ 

তোমার মুখ থমকে যাওয়া নদীখাতের মতো... 



অলংকরণ - পৌলমি দেবনাথ

::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

কবিতা

শাপলা পর্ব -৬


কবি সুবীর সরকার এর কবিতা-




১।।  ∆ সম্পর্ক ∆



যদি হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলি আবার ফিরে                                                            আসতো
ক্যারামের লাল গুটি খুঁজে দিতে বলতেন শৈলেন জ্যেঠু
আমি ভুলতে পারি না মেজদির মৃত্যুর দিন
মায়ের বরফশীতল কপালে কোনোদিন আর ঘাম জমবে না
পৃথিবীর সমস্ত মাঠে আমি ঘুঘুদের বসে থাকতে                                                              দেখি
ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক আসলে গুনগুন
                                                  গান
মামাবাড়ির উঠোন থেকে আমি কুড়িয়ে আনি
                                                 পুতুল
আমার দিকে এগিয়ে আসে কমলা রঙের   
                                              খরগোশ
লেডিকিলার হতে চাওয়া পুরুষের চওড়া
কাঁধে বসে থাকে ফড়িং
জীবনের ভেতর ঢুকে পড়তে থাকে অপমান
পাটবনের দিকে দৌড়ে পালানো শেয়ালেরা
এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শব্দের নাম কাশফুল
পাখিরা ডানা ঝাড়ে।
 আমি যুক্তাক্ষর ও জলযানের কথা লিখি
মৃত বন্ধুদের জন্য আজও চোখ ভিজে যায়
আর রেডিওতে জন্মান্তরের গান বাজে





২।।   ∆ কলাবাগানে মার্কেজ ∆




কলাবাগিচায় মার্কেজ,হাতে হাভানা চুরুট
হেমন্তের রোদ মাখছে  পল গগার ডায়েরি
ওয়ারহীন বালিশ ও নীল মশারীর নিচে দিন
                                                      কাটে
দু'ধারে পতঙ্গের বন,পাখিরাও ডানা মেলে
                                                     ওড়ে
কতকিছু ঘটে চলে।ঘটনাক্রমের সাথে লীন
                                                হয়ে থাকি
চূড়ান্ত প্রেমিক হবো
ঠোঁটে ঠোঁটে শিস বাজবে
ফাঁকা মাঠে গড়িয়ে যাবে কত শত
                                       মার্বেল
ড্রামবাদক পিঠ ঠেকে নামিয়ে রাখছেন
                                                  ড্রাম
পেয়ালা থেকে চলকে যাওয়া চা
স্বপ্নে বারবার দেখি বেড়ালের থাবা
আর গোলকিপারহীন গোলপোষ্ট
কলাবাগানে মার্কেজ,হাতে হাভানা 
                                        চুরুট





৩।।   ∆ তথ্যচিত্র ∆



নদীকে তো নদীর জল দিয়েই চিনে নিতে হয়
একটা বাঁশি তো কিনে আনতে পারো অন্তত
                                            আমার জন্য
রিস্টওয়াচে বরফ জমলে 
আমরা প্ৰত্যবর্তনের গল্প বলা শুরু
                                           করি
পৃথিবীতে হাজার হাজার মানুষ গান গাইতে
                                                         পারে না
আমার কোলবালিশের ভেতর পাখি ঢুকে
                                                    পড়ে
আমার পাশবালিশের নিচে সুড়সুড়ি ঢুকে
                                              পড়ে
গোপন চিঠির গল্প আর শোনাবো না
তথ্যচিত্রে গুঁজে দেব ফেরিঘাট





৪।।  ∆ মায়াবন্দর ∆



তুই আলোর নিচে হাঁটবি
তুই হাওয়া জড়িয়ে হাঁটবি
পদযাত্রা শুরু হবে আর পদযাত্রা পৌঁছে যাবে
                                   ঘোকসাডাঙ্গার হাটে
আমি তখন নুতন করে সব সাজাচ্ছি
বাদামী রঙের ঘোড়ার সাথে হাডুডু 
                                           খেলছি
এই শহরে অনেক গোপন গুহা আছে
খসে পড়া পাতার গান
কপালের ভাঁজে জমে থাকা
                                    ঘাম
হরিণ ঢুকে পড়ছে পূর্ববঙ্গ কলোনির ভেতর
শুকিয়ে যাওয়া পুকুরে আমি সর্বাঙ্গ ডুবিয়ে
                                                 রাখি
ধনিবাড়ির ছবি থেকে ম্যাজিক নেমে আসছে
মায়া ও মমতা আসলে তো এক বন্দরের নাম
সারাজীবন আগ্রহ দেখালাম কফিন    
                                    বহনকারীদের জন্য
পিতলের কুঁজো থেকে এখন জল ঢালা হচ্ছে
দিগন্তে অনেক হাঁস
পাখিরা মুখস্থ করছে পিনকোড
বন্দুক পছন্দ করি না
বারুদ ভালোবাসি না
পিয়ানোর পাশে ফেলে আসি 
                                   রিস্টওয়াচ
কালো আলখাল্লার মত জীবন আমাদের
অথচ শ্যাওলার রং কিন্তু সবুজ নয়
অভিমানের কোনো প্রতিশব্দ হয় না
হাট ও মাঠের আড়াল থেকে আমরা হাততালি
                                        কুড়িয়ে অনি





৫।।  ∆ গান ∆



আমাদের জীবনে টুকরো মেঘের মত কিছু      
                                         ভরসন্ধ্যে আছে
আজকাল পায়ে পেরেক ফুটলেও আর ব্যাথা
                                                       পাই না
দু'চার মিনিট কথা বলা হয়ে গেলেই
উড়তে শেখা পাখিদের ব্যালাড শুনি
কিছু কি সত্যি হারায় মানুষের জীবনে!
নদীর পলিতে মৃদু পা রাখি
ভোরের বাতাসের গান অনন্ত গাড়িয়াল হয়ে
                                                      বাজে






অলংকরণ - পৌলমি দেবনাথ

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

কবিতা

শাপলা পর্ব -৬


কবি দিশারী মুখোপাধ্যায় এর কবিতা-




১।।  ∆ সূচনা ∆



ঠিক কোনখান থেকে শুরু করা যায় 
এই পাথর খোলামকুচি নাকি ফুল-ফল 
এই নালা নর্দমা নাকি আকাশ পাতাল 
এই হাতাখুন্তি নাকি কবিতা গান 


চব্বিশ ঘন্টা ব্যাপী খুঁজেছি দিনের আলোয় 
চব্বিশ ঘন্টা ব্যাপী খুঁজেছি রাতের অন্ধকারে 
দিনের অন্ধকারও দেখেছি 
রাতের আলোও দেখেছি 
ঠিক কোনখান থেকে শুরু হয়েছে এই জল 
জল থেকে প্রবাহ আর প্রবাহ থেকে ঘুম 


ঘুম বলতে ঠিক কী বোঝায় 
হয়তো এই পাথর জানে কিংবা জানে পাখি কিংবা গান 






২ ।।  ∆ সত্য এবং অসত্য ∆



শব্দার্থ নিয়ে আমি লড়াই-এ মাতি না , শব্দকে ভালবাসি শুধু ।
শব্দের ভেতর ব্রহ্মা আছেন কী নেই এসব জ্ঞানের তৃষ্ণা 
জ্ঞানীদেরই থাকে শুধু , জল পান করে যারা শীতল হন না কোনোদিন । 

রঙ যাকে ছুঁয়ে থাকে তাকেই রঙিন বলে মানি , রঙেদের 
জাত গোত্র সন্ধানে নামি না।  রঞ্জন বা রঞ্জনাকে সমান বন্ধুত্ব দিয়ে 
নিজের বুকের মাঠ সবুজ পোশাকে ঢেকে সাজিয়ে নিয়েছি । 
আকাশে নক্ষত্রগুলি দিনরাত্রি ডাকে । 

স্বপ্নের ভেতর যার পেয়েছি সন্ধান কেবল অলীক বলে তাকে 
দূরে রাখিনি সরিয়ে , বিজ্ঞানীর মত তার সন্ধান করেছি 
গলাধঃকরণ আর আঙ্গিকরণের সাথে সাথে , ভবঘুরে বলে যারা 
তাচ্ছিল্য করেছে মানস প্রেমিক- পাখিদের তাদের জন্য আজও সুখবর 
দিতে পারছি জেনো , মানস মন্থন করে আতপ ভাতের গন্ধ 
বন্টন করার বিল পাখিদের সংসদে কাল অনুমতি পাবে । 

আলোর ভেতর আমরা স্বাধিকার পাই , অন্ধকারে পাই নিজ নিজ পরিচয় । 


 



 ৩ ।।  ∆  ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ∆



গভীর শালজঙ্গলের ভেতর প্রচ্ছন্ন এক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ 
গাছের ডালে ডালে জড়িয়ে থাকা লতাগুলি মোটা হতে হতে 
পাইথন ঘুম ,তার নিচে ফাঁকে ফাঁকে স্টাফকোয়াটার্সের গায়ে 
সুগন্ধি সাবানের ফেনায় সূর্য ভেঙে রামধনু । চত্বরের মাঝ বরাবর 
যোগ চিহ্নটি চিত হয়ে শুয়ে ভাগ অঙ্কে সরবে নীরব , আর 
সেই যোগচিহ্ন বেয়ে পিঁপড়ে-মানুষেরা আলোর অন্ধকারে ঘুরপাক 
অবিরাম । মেয়ে-হস্টেলের পাশ দিয়ে এক বনবাসের রাস্তা 
যা ইন্টারনেটে ধরা পড়ে না । ছেলে-হস্টেলের চারধারে আছে 
বেশ কিছু গর্তপথ , ভাসপক্ষী বসে আছে ড্রাগ-যোনি পথে 
কলার উঁচানো অধ্যাপকরা ধাতু প্রস্তরে হাবুডুবু । তবু এই কলেজ 
ক্যাম্পাসের বেশ স্ফীত বক্ষে দুর্গাচালা অহরহ পাল্টে দিচ্ছে 
আলোর অর্থ অন্ধকারের সামর্থ্যকে । এইখানে 
আমগাছের নিচে এক গুমটি-ডাকঘরে বসে একজন অনুজ্জ্বল কবি 
অহরহ মেপে চলেছেন মানুষের রক্তচাপ, শর্করা ও 
হিমোগ্লোবিনের দৈনন্দিন ত্রাস-ব্যাকরণ  





  ৪ ।।  ∆ জলযীশু ∆



পাথরের জলপান চলে 
চরিত্র খোয়ার ভয় বিন্দুমাত্র থাকে না জলের 
সে জানে চরিত্র বলে নিজস্ব কিছু নেই তার 
অথবা যা আছে তাকে বিকৃত করে 
খিদে ছটফট বাঘেরও ক্ষমতা নেই 
সুতরাং পাথরকে স্তনদান 

স্তনপানে পাথরের মেদমজ্জা বাড়ে 
লৌকিক-সংসারধর্মে ভাষা পায় রঙ পায় অনাকৃতি পায় 
একদিন জলকেই সে গবেষণা করবে ঠিক করে 
ছোটো বড় পত্রিকায় জল নিয়ে প্রচুর প্রবন্ধ গান গল্প কবিতায় 
যা ইচ্ছা তাই লিখে চলে 
যা ইচ্ছা তা বুঝে নিয়ে কিছু লোক 
পাথরকে সংবর্ধনা দেয় 

জলকে যারা জল বলে চেনে 
তারাই কেবল জানে 
জলে আর যিশুখ্রিষ্টে পার্থক্য নেই 





৫ ।।  ∆ ঘাটশিলা ∆



সুবর্ণরেখার কাছে জল চেয়ে বিব্রত হয়েছি
জল নেই অশ্রু নেই উচ্ছ্বাস নেই আছে আর্তি শুধু
সোনার রেখার ছবি বদলে গেছে কার্বনের দাগে 
ধারাগিরি গিয়ে দেখি গিরি আছে ধারা নেই 
গাছেরা নির্বাক আর অনুজ্জ্বল স্থিরচিত্রে বাঁধা
বিভূতিভূষণ নেই চতুর্দিকে বিভূতি কেবল 
চায়ের দোকানে গিয়ে জল চাইলে কিনলের বোতল 
যে মেয়েটি জল দিত কিছুদিন আগে তার 
মৃত্যু হয়েছে বলে বোতল-জলেরা খুব দাপাচ্ছে এখন 
সামান্য জঙ্গল থেকে রাস্তার হাত ধরে পার হতে হতে 
দেখি একটি বালক একাই 
আনন্দে পাথর চেটে তৃষ্ণা মুক্ত নধর উদ্ভিদ 



অলংকরণ - অমৃতা নায়ক

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°



কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-৩ হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়‌ এর কবিতা - ∆ লুকোচুরি  ক্রমশ রাত গভীর হলে অন্ধকারে আমাদের আজন্মের লুকোচুরি শুরু হয়  ...